সর্বশেষ

শান্তিগঞ্জে ফলাফলে কারসাজির অভিযোগ, পুনরায় ভোট গণনার দাবি

 

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডে একটি কেন্দ্রের ভোট জালিয়াতি করে সদস্য পদে পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

কেন্দ্রে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার, ছাতক উপজেলাধীন হাজি আবদুল খালিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাক আহমদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করে ওই কেন্দ্রের পুনরায় ভোট গণনার দাবি করেন ওয়ার্ডের সদস্য পদপ্রার্থী মো. নূরুল ইসলাম।

এদিকে ফলাফল প্রকাশের পর চলতি মাসের ২ তারিখ জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বরাবর ও ১৯ ডিসেম্বর ডাকযোগে জেলা নির্বাচন অফিসার বরাবর এ অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পঞ্চগ্রাম মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ভোট গণনার আগেই নির্বাচনী সকল এজেন্টদের কাছ থেকে ফলাফলপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে নেন। ভোট বাছাইয়ের সময় নূরুল ইসলামের ৫টি বান্ডিলসহ আরও প্রায় ৫০টি ব্যালট ফুটবল প্রতীকের এবং মো. সালিক আহমদের তালা প্রতীকের ১শ টির ২টি বান্ডিল ও খুচরা আরও প্রায় পৌনে ১শ ব্যালট দেখেছেন তার নির্বাচনী এজেন্ট মো. আজিজুর রহমান।

কিন্তু প্রিজাইডিং অফিসার ভোট গণনার পর কেন্দ্রে ফলাফল প্রকাশ করেন নি। প্রিজাইডিং অফিসার উপস্থিত থাকার পরও মেম্বার পদের ফলাফল ঘোষণা করেন তালা প্রতীকে নির্বাচনী এজেন্ট সুজন মিয়া। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ অপর দুই প্রার্থী ইসমাইল (মোরগ) ও আক্তার হোসেন (বৈদ্যুতিক পাখা)। এসব কারণ দেখিয়ে নির্বাচনী ফলাফল মেনে নিতে না পেরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করেন নূরুল ইসলাম।

মো. নূরুল ইসলাম বলেন, আমি আমার ফলাফল দেখে অবাক। আমার নির্বাচনী এজেন্ট মো. আজিজুর রহমান কেন্দ্রে থেকে নিজের চোখে আমার ফুটবল মার্কার ৫টি বান্ডিলসহ আরও প্রায় ৫০টি ব্যালট দেখেছেন। আর যে বিজয়ী (তালা) ১শ টির ২টি বান্ডিল ও খুচরা আরও প্রায় পৌনে ১শ ব্যালট দেখেছেন। তারপরও আমি পরাজিত হই কীভাবে? নিশ্চিত আমার রেজাল্ট জালিয়াতি হয়েছে। আমি এর তদন্ত সাপেক্ষ বিচার দাবি করি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ইউনিয়নের নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মাজিদুর রহমান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিকে প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিলো। তিনি তার পক্ষ থেকে একটি গ্রহণযোগ্য উত্তর দিয়েছেন। এখনও যদি অভিযোগকারীর অভিযোগ থেকে থাকে তাহলে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ব্যবস্থা নেবেন।উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, অভিযোগ হয়ে থাকলে ট্রাইব্যুনাল হবে। ট্রাইব্যুনালেই তদন্ত সাপেক্ষে এর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার বলেন, এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠন হবে। ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।উল্লেখ্য, তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২৮ নভেম্বর।

নির্বাচনে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আক্তার হোসেন (বৈদ্যুতিক পাখা) ৩শ ৯৫, ইসমাইল (মোরগ) ১শ ২২, নূরুল ইসলাম (ফুটবল) ২শ ৯৭, মো. মিজানুর রহমান (টিউবওয়েল) ০৩ ও মো. সালিক আহমদ (তালা) ৫শ ৪৪টি ভোট পান। মোট ১৮শ ৬টি ভোটের মধ্যে উপস্থিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ১৩শ ৩৮টি। এর মধ্যে ৩৭টি ভোট ছিল বাতিলকৃত।

50% LikesVS
50% Dislikes
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ