সর্বশেষ

দিরাইয়ে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের নিয়ে অস্বস্তিতে আ.লীগ

আগামী ২৬ ডিসেম্বর দিরাই উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শক্ত অবস্থানে থাকায় দলের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে অনেকটা অস্বস্তিতে আছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা।

উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত না নিয়ে ব্যক্তি কয়েকের ইচ্ছায় বিতর্কিত ও অপরিচিতদের দলীয় প্রতীক দেওয়ায় এখন আওয়ামী লীগই আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত  অনেক পদধারী এবং ত্যাগী নেতাকর্মী বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছেন। বিদ্রোহী সামাল দিতে অনেকটা বেকায়দায়  আওয়ামী লীগ।

জানা যায়, রফিনগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শৈলেন্দ্র কুমার তালুকদার, বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতি জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সাবেক  চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর চৌধুরী। ভাটিপাড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী সিরাজ, বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ নেতা বর্তমান চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান কাজী, সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ নেতা বিজিত চন্দ্র দাস, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতা বদরুল ইসলাম চৌধুরী মিফতা।

রাজানগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সফিকুল হক তালুকদার, বিদ্রোহী যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম জুয়েল, আওয়ামী লীগ নেতা নওশেরান চৌধুরী। চরনাচর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জগদীশ সামন্ত, বিদ্রোহী  আওয়ামী লীগ নেতা পরিতোষ রায়, পরেশ লাল দাস।

সরমঙ্গল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রঞ্জিত রায়, বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ নেতা বর্তমান চেয়ারম্যান এহসান চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা তপন কান্তি তালুকদার, কানু লাল দাস। করিমপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী লিটন চন্দ্র দাস, বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ নেতা সিজিল মিয়া, যুবলীগ নেতা তপু দাস।

জগদল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী, জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন রশীদ লাভলু, বিদ্রোহী বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শিবলী আহমেদ বেগ, আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ।

তাড়ল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহমদ চৌধুরী, বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ নেতা বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল কুদ্দুস, আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আকিকুর রেজা, আওয়ামী লীগ নেতা মো. লাল মিয়া।কুলঞ্জ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিলন মিয়া, বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ নেতা পবিত্র মোহন দাস, আলাউর রহমান তালুকদার, যুবলীগ নেতা মোঃ একরার হোসেন, চান মিয়া চৌধুরী।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি এডভোকেট সোহেল আহমদ বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।প্রসঙ্গত, আগামী ২৬ ডিসেম্বর দিরাই উপজেলার ৯ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এবারের ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫৮ জন। সংরক্ষিত নারী আসনে ১০৯ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৩৬১ জন প্রার্থী। উপজেলার ৯ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১৬২৯৮৬ জন, পুরুষ ৮১৭৩৩ জন, মহিলা ৮১২৫৩ জন।

50% LikesVS
50% Dislikes
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ