সর্বশেষ

পীরগঞ্জের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ

 

রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্যতম হোতা সৈকত মণ্ডল ও সহযোগী রবিউল ইসলামকে টঙ্গী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। শনিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানায় বাহিনীটি।

গ্রেপ্তার দুজন জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, অরাজকতা তৈরি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের লক্ষ্যে হামলা-অগ্নিসংযোগ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার এবং মাইকিং করে হামলাকারীদের জড়ো করেছিল তারা।

গত ১৭ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্টকে কেন্দ্র করে রংপুরে পীরগঞ্জের বড় করিমপুর গ্রামে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর, দোকানপাট ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ওই ঘটনায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে পীরগঞ্জ থানায় ৩টি মামলা দায়ের হয়।

এরপর র‌্যাব-১৩ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্যে হামলায় নেতৃত্বদান ও ঘটনা সংগঠিত করার সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে জানা যায় বলে উল্লেখ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১৩ এর একটি দল শুক্রবার রাতে টঙ্গী থেকে মো. সৈকত মণ্ডল (২৪) ও মো. রবিউল ইসলাম (৩৬)-কে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তারা অরাজকতা তৈরির ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের লক্ষ্যে হামলা-অগ্নিসংযোগ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার এবং মাইকিং করে হামলাকারীদের জড়ো করে।

সৈকত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে স্থানীয় জনসাধারণকে উত্তেজিত করে তোলে। এ ছাড়া হামলা ও অগ্নিসংযোগে অংশগ্রহণে জনসাধারণকে

উদ্বুদ্ধ করে। তার নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে বাড়িঘর, দোকানপাট ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। রবিউলকে মাইকিং করে লোকজন জড়ো করতে নির্দেশনাও দিয়েছিল সে। ঘটনার পরে সৈকত আত্মগোপনে চলে যায়।

সৈকত মণ্ডল রংপুরের একটি কলেজের স্নাতকে অধ্যয়নরত। সে বিভিন্ন সময়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন উসকানিমূলক ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট প্রদান ও শেয়ার করত বলে জানায় র‌্যাব।

অন্যদিকে রবিউল উক্ত হামলা ও অগ্নিসংযোগের আগে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মাইকিং-এর মাধ্যমে বিভিন্ন উসকানিমূলক ও মিথ্যাচার করে গ্রামবাসীকে উত্তেজিত করে তোলে ও হামলায় অংশগ্রহণের জন্য জড়ো হতে বলে। পরে মাইকিং-এর দায়িত্ব তার আস্থাভাজনকে প্রদান করে নিজে সশরীরে অংশগ্রহণ ও নির্দেশনা দেয়।

রবিউল জানায়, সৈকতের নির্দেশনায় ও প্ররোচনায় মাইকিং করাসহ হামলায় অংশগ্রহণ করে। ঘটনা পরবর্তীতে সেও আত্মগোপনে চলে যায়।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আরও জানায়, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, ফেনী এবং রংপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চালানো অভিযানে প্রায় ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

50% LikesVS
50% Dislikes
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ