সর্বশেষ

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে ধর্ষণের পর চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের মামলার অভিযোগ গঠন পিছিয়েছে

 

আসামীদের অব্যাহতির আবেদনের প্রেক্ষিতে সিলেটের মুরারীচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের মামলায় অভিযোগ গঠন হয়নি।

অব্যাহতি আবেদনের শুনানী শেষে মামলার অভিযোগ গঠন হবে বলে জানিয়েছেন আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রাশিদা সাইদা খানম।

মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পুলিশের দায়ের করা ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ গঠনের দিন নির্ধারিত ছিল।

ট্রাইব্যুনালের পিপি রাশিদা সাইদা খানম জানান, মামলার প্রধান আসামী সাইফুর রহমানের আইনজীবী অব্যাহতির আবেদন করলে শুনানী শেষে বিচারক মোহিতুল হক আবেদনটি শুনানির জন্য রেখে দেন। ফলে অভিযোগ গঠন হয়নি।

তিনি বলেন, আজ কারাগার থেকে আদালতে আসামীদের নিয়ে আসা হলেও বিচারকের সামনে হাজির করা হয়নি।

গত বছরের ৩ ডিসেম্বর এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত ছাত্রলীগকর্মী সাইফুরসহ আট জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।

এরমধ্যে ধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্র নারী ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ও চাঁদা দাবি ও গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলাটির অভিযোগপত্রটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে জমা দেয় পুলিশ।

ধর্ষূণ মামলার অভিযোগপত্রে আট আসামির মধ্যে ছয়জনকে ধর্ষণে সরাসরি জড়িত আর দুইজনকে তাদের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরাসরি জড়িত অভিযুক্তরা হলেন, প্রধান আসামি ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি,তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম রাজন মিয়া।

আর সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাসুমকে।

এর আগে ডিএনএ টেস্টেও গ্রেপ্তার আসামিদের ডিএনএ নমুনার সাথে ঘটনাস্থলের ডিএনএ নমুনার মিল পাওয়া যায়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মো. শহীদুজ্জামান জানান, এসমি কলেজ ছাত্রবাসে আলোচিত এ ধর্ষনের অভিযোগে একটি ও ধর্ষিতার স্বামীর কাছে চাঁদা দাবি ও গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে আরেকটি মামলা করে।

এডভোকেট মো. শহীদুজ্জামান জানান, বাদী পক্ষ মনে করে একই ঘটনায় পৃথক দু’টি মামলা দুই আদালতে বিচারকাজ পরিচালিত হলে সাক্ষীরা দুই আদালতেই সাক্ষী দিতে হবে। এতে নানা অসঙ্গতি দেখা দিবে। এতে বিচার প্রক্রিয়াও ব্যাহত হবার আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই দু’টি মামলাই একই আদালতে বিচার করার জন্য আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে। পরে হাইকোর্ট দুটি মামলা একই আদালতে বিচারের আদেশ দেন।

এ আদেশের পর সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দুটি মামলা একসাথে বিচার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ধর্ষনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গত ১৭ জানুয়ারী আট আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু এখনো সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি।

গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে টিলাগড় এলাকার এমসি কলেজে স্বামীর সাথে বেড়াতে আসা ওই গৃহবধূকে ক্যাম্পাস থেকে তুলে ছাত্রাবাসে নিয়ে ধর্ষণ করেন কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী।

এ ঘটনায় পরদিন সকালে নির্যাতিতা গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বহুল আলোচিত এ মামলায় ৪৯ জনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে।

50% LikesVS
50% Dislikes
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ