সর্বশেষ

অন্ধকার জগতের ‘শুকতারা’ পরীমনি

 

পরীমনি। বর্তমান সময়ের আলোচিত একটি নাম। সীমানা পেরিয়ে আলোচনার রেশ চলে গেছে ওপার বাংলায়। আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি গঠনমূলক পর্যালোচনা করছেন অনেকে। তবে র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে এ নায়িকা।

পাশাপাশি বেরিয়ে এসেছে, অন্ধকার জগতে যেভাবে আলো ঝলমলে হয়ে উঠেছিলেন সে তথ্য। শুটিংয়ের আড়ালে বিশেষ ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হতেন এ নায়িকা। বিভিন্ন পাঁচতারকা হোটেলে প্রায়ই দেখা যেত তাকে। গভীর রাত পর্যন্ত পার্টি করতেন পরীমনি। নিজের জন্মদিনে ঘটা করে পার্টির আয়োজন করতেন। যার ব্যয়বহন করত তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

দেশের বাইরেও বেপরোয়া চলাফেরা করতে পরীমনি। শুটিং সেট থেকে অজানা উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যেতেন তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমনটাই জানিয়েছেন এক পরিচালক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ধূমপানে অভ্যস্ত এ নায়িকা। চেইন স্মোকার হিসেবেও পরিচিত তিনি। শুটিংয়ের ফাঁকে ধূমপান করতেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে মাদকে আসক্ত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন পরীমনি। জানিয়েছেন, ২০১৬ সাল থেকে অ্যালকোহলে আসক্ত তিনি। নিজের চাহিদা মেটানোর জন্য নিজের ফ্ল্যাটে মিমি বার স্থাপন করেছেন। পরীর বারে বিদেশি মদ থাকত। সেগুলো সরবরাহ করত নজরুল রাজ।

শোনা যায়, পুলিশ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, আমলা, রাজনীতিবিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতেন পরীমনি। বিশেষ লোকদের ডাকে শুটিং সেট থেকেও চলে গিয়েছিলেন এ নায়িকা। দেশের বাইরে ঘুরতে যেতেন তাদের আশীর্বাদ নিয়ে। একটি বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান পরীকে দামি গাড়ি উপহার দিয়েছেন। সবশেষ দুবাই ভ্রমণ করেছেন ওই চেয়ারম্যানের কল্যাণেই।

র‌্যাবের কাছে পরী স্বীকার করেন, পরীকে শোবিজ জগতে নিয়ে আসেন প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ। তিনি রাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার। ঢালিউডে অভিষেকের আগে নজরুল রাজের কাছেই থাকতেন পরীমনি। তার মাধ্যমেই বিভিন্ন প্রভাবশালী লোকদের সঙ্গে পরিচয় হয় পরীর।

পরীমনির সঙ্গে যাদের যোগাযোগ ছিল তাদের বেশ কয়েকজনকে নজরদারিতে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ নায়িকার কয়েকটি ব্যাংক হিসাবও আছে পুলিশের নজরদারিতে। পরীর সোর্স অব ইনকাম নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছে। তখন তিনি দাবি করেছিলেন, একটি মাত্র হ্যারিয়ার গাড়ি আছে তার। যেটি ব্যাংক লোনে কিনেছেন। পরী থাকেন একটি ভাড়া ফ্লাটে। নিয়মিত কর প্রদান করেন তিনি।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) বনানী থানায় মাদক আইনে মামলা হয় পরীর নামে। সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে তোলা হয় এ নায়িকাকে। শুনানি শেষে পরীর চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন এ নায়িকা।

পরীমনি গ্রেপ্তারের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে ফিল্মপাড়া। পরীমনির কী হবে? তা নিয়ে ভাবছে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অনেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নির্মাতা জানান, পরীর ক্যারিয়ারে আগে কমা ছিল, এখন দাঁড়ি পড়েছে। নতুন করে কেউ তাকে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হবে না। পরীমনির এ ঘটনায় অনিশ্চয়তায় পড়েছে একাধিক সিনেমা।

50% LikesVS
50% Dislikes
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ