সর্বশেষ

নারায়ণগঞ্জের আগুনে গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বেভারেজ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের মধ্যে আটজনের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। প্রিয়জনের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে তাদের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। লাশের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন স্বজনরা।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার দানাপাটুলি ইউনিয়নের কালিয়ারকান্দা গ্রামের চান মিয়ার শিশুপুত্র নাজমুল (১৪)। বাবা দিনমজুর। মা নাজমা বেগম মাটি কেটে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলেকে পড়াশোনা শেখাচ্ছিলেন। কিন্তু অভাব-অনটনের সংসারে বাধ্য হয়ে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাত্র ৪ হাজার টাকা বেতনে শ্রমিকের চাকরি নেয় নাজমুল। দুদিন আগে সবশেষ মায়ের কাছে ফোন করে। সে মাকে বলেছিল, সামনের ঈদে বেতন হবে। বেতনের টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরবে সে। এরই মধ্যে এলো ছেলের মৃত্যুর খবর। এমন খবরে যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে মা-বাবাসহ স্বজনদের।

শুক্রবার রাতে কালিয়ারকান্দা গ্রামে নাজমুলদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় ছোট্ট কুঁড়েঘরে মা নাজমাসহ স্বজনরা নাজমুলের ছবি আর সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে মাতম করছেন। স্বজনদের আহাজারিতে কারও চোখের পানি ধরে রাখা যাচ্ছিল না।

 

নাজমুলের মা জানান, দুই ভাই-বোনের মধ্যে নাজমুল ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম। শুক্রবার ফোনে তার মৃত্যুর খবর পাই আমরা। এখন আমাদের যে কী হবে বলে বিলাপ করতে থাকেন।

কটিয়াদী উপজেলার গৃহবধূ জুবেদা বেগমের দুই মেয়ে কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন। রূপগঞ্জের আগুনে মারা গেছে ছোট মেয়ে রাবেয়া। বড় মেয়ে কল্পনাকে বিয়ে দিলেও স্বামী তাকে ফেলে চলে গেছে। কল্পনার ৮ বছরের মেয়েটি জুবেদার কাছে থাকে। টানাপড়েনের সংসারে একটু সচ্ছলতা আনতে মাত্র কয়েক মাস আগে রূপগঞ্জের বেভারেজ কোম্পানিতে শ্রমিকের কাজ নেয় ছোট মেয়ে রাবেয়া (১৮)। কিন্তু এমন দুঃসংবাদে সব স্বপ্নই যেন শেষ হয়ে গেছে জুবেদার। মেয়ের মৃত্যুর খবরে শোকে পাথর হয়ে গেছেন তিনি। একই অবস্থা প্রতিটি পরিবারে। কেউ নিশ্চিত হয়েছেন স্বজনের মৃত্যুর বিষয়টি। কারও স্বজনের কোনো খোঁজ মিলছে না এখনও। কারও স্বজন আহত হয়ে হাসপাতালে লড়ছে মৃত্যুর সঙ্গে।

জানা গেছে, বেভারেজ কারখানার অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত কিশোরগঞ্জের সদর উপজেলায় দুই, কটিয়াদী উপজেলায় তিন এবং করিমগঞ্জ উপজেলায় তিনজনের মৃত্যুর খবর জানা গেছে। সবশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, জেলার নিহত কিংবা নিখোঁজরা হচ্ছেনÑ কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার দানাপাটুলি ইউনিয়নের কালিয়ারকান্দা গ্রামের চান মিয়ার ছেলে নাজমুল (১৪), একই ইউনিয়নের গাগলাইল গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার স্ত্রী আছমা (৪৫), করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কুকিমাদল গ্রামের হারুনর রশীদের মেয়ে মিনা আক্তার (২২), একই ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের আবু বাক্কার (৪২) ও তার স্ত্রী জেসমিন (৩৫), কটিয়াদী উপজেলার ধুলদিয়া ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামের সেলিম মিয়ার স্ত্রী অমৃতা আক্তার (২৫), একই এলাকার চান্দু মিয়ার মেয়ে রাবেয়া (১৮) ও বাচ্চু মিয়ার মেয়ে তাসলিমা (১৮)।

 

এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সরকারি সূত্রে এখনও হতাহতের বিষয়ে সঠিক কোনো পরিসংখ্যান জানা যায়নি।

 

যোগাযোগ করা হলে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. শামী আলম বলেন, ‘বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আমরা জেলার কেউ কেউ মারা গেছে বলে খবর পাচ্ছি। কিন্তু সরকারিভাবে এখনও নারায়ণগঞ্জ থেকে আমাকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তবে আমরা নিজেরা খোঁজখবর নিচ্ছি।’

50% LikesVS
50% Dislikes
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ