সর্বশেষ

উপ-নির্বাচনে আস্থা ফিরিয়ে আনার আহবান জানিয়েছেন সিলেট-৩

উপ-নির্বাচনের ফলাফল সরকার গঠনে প্রভাব পড়ে না, তাই এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু করে ভোটদানে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার আহবান জানিয়েছেন সিলেট-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক। রোববার সিলেট নগরের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি এ আহবান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জাপার প্রার্থী আতিক বলেন, এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে না। তাদের অভিযোগ ভোট সুষ্ঠু হয় না। এজন্য বিএনপি ও তাদের শরীকরা কেউ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। সাধারণ মানুষের কাছে ভোটের আস্থা নেই। তাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অন্তত এই উপ-নির্বচানে কোনো কারচুপি করা ঠিক হবে না। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে মানুষের যেমন আস্থা ফিরবে, তেমনি অন্য রাজনৈতিক দলও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিবেশ পাবে। সেই সাথে নির্বাচন কমিশনের ভমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হবে না।

আতিক আরো বলেন, জাপা একটি গণতান্ত্রিক দল। আমরা জনগণের রায়ে বিশ্বাসী। এজন্য জনগণকে ভোটদানের পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। অতীতে জাপা মহাজোটের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এবার দলের পক্ষ থেকে আমাকে মনোনীত করা হয়েছে। আমরা আশা করি আওয়ামী লীগ সরকার এই উপ-নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করবে। নদীর কিনারে এসে আশা করছি অন্তত এবার সুষ্ঠু ভোট দিয়ে প্রমাণ করবে ইসি একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। আমরা সুবিধা চাই না, সুষ্ঠু ভোট চাই। ভোটদানের ভালো পরিবেশ চাই।

ভোটারদের উদ্দেশ্যে আতিক বলেন, জনগণ দেশের মালিক। তারা ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে। তাই ভোটদানে আপনাদেরকেও সচেতন হতে হবে। আপনাদের ভোট কেউ হরণ করে নিলে প্রতিবাদ করবেন। নিজেদের ভোট প্রয়োগ করে একজন ভালো জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করুন, যাতে সে আপনাদের কাজে আসে।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব-কে উদ্দেশ্য করে আতিক বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিব বলেছেন আমরা নাকি তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছি। আসলে জাপা কাউকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করে না। তিনি দুই দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে নির্বাচনে এসেছেন। বিষয়টি আমরা ইসিকে অবগত করেছি। এটা ষড়যন্ত্র না, নির্বাচনের একটা অংশ। এটা নিয়ে আইনী লড়াই করেছি। এখন মাঠে লড়াই করব।
আতিকুর রহমান আরো বলেন, আমি হাবিবকে অনেক স্নেহ করি। সে আমার ছোট ভাইয়ের মত। আমি যখন ১৯৭০ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর গলায় ফুলের মালা দেই, তখন তার জন্মই হয়নি। হাবিবের জন্ম হয়েছে ১৯৭২ সালে। আমি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যখন সিলেটে একটি অনুষ্ঠানে অতিথি করে নিয়ে আসি তখন সে (হাবিব) রাজনীতি কি বুঝতো না। এজন্য আমি তাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি না। আমার ছোট ভাই মনে করি।

নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার প্রসঙ্গে আতিক বলেন, ৮০-র দশক থেকে আমার রাজনীতি শুরু। ১৯৮৬ সালে আতিক গোল্ড কাপ দিয়ে আমি ক্রীড়াঙ্গণে কাজ শুরু করি। পরবর্তী সময়ে কৃষকদের জন্য কৃষক সমাবেশও করেছি। শেখ হাসিনা আমার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ আমাকে খুব ভালো করে চেনে। আমাকে সুযোগ দিলে আমি তাদের জন্য কাজ করব। তাই একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করে জনপ্রিয়তা যাচাই করা যেতে পারে।
আতিক আরো বলেন, জাপার প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বারবার বলতেন সিলেট তাঁর ২য় বাড়ি। এই সিলেটে তাঁর অনেক স্মৃতি রয়েছে। স্কুল কলেজ, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে এয়ারপোর্ট, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ রাস্তাঘাটে পল্লীবন্ধুর অবদান আছে। আজকে যেসব উপজেলা নিয়ে নির্বাচন হচ্ছে সেই উপজেলাও প্রতিষ্ঠা করেছেন পল্লীবন্ধু এরশাদ। সেই পল্লীবন্ধুর মত সিলেটের মানুষের সেবা করার ইচ্ছা আমারও আছে। আমাকে সুযোগ দিলে আমিও কাজ করবো সিলেটের উন্নয়নে, মানুষের স্বার্থে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক কুনু মিয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য মুজিবুর রহমান মুজিব, জাপা সিলেট মহানগরের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী আশরাফ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ নজরুল, জেলা জাপার যুগ্ম আহবায়ক হুমায়ুন আহমদ, জাপা নেতা আহসান হাবিব নুর, আলতাবুর রহমান আলতাব, বাশির আহমদ, দৌলা আহমদ, মরতুজা আহমদ চৌধুরী, মামুনুর রশিদ মামুন, জাহাঙ্গীর খান, আখতার হোসেন ও সাহেল রাজা চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

50% LikesVS
50% Dislikes
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ