সর্বশেষ

শ্রমিক বিক্ষোভ: কার্যক্রম বন্ধ তারাপুর চা-বাগানের

 

বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে আন্দোলনের পর এবার কাজে যাচ্ছেন না সিলেটের তারাপুর চা-বাগানের শ্রমিকরা। শনিবার (২২ মে) সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেননি। আর আগামীকাল রোববার (২৩ মে) প্রায় দুই সপ্তাহের বকেয়া মজুরি ও বাগানের চলমান সংকট নিয়ে প্রশাসনকে স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চা-শ্রমিক নেতারা।

এদিকে বাগান কর্তৃপক্ষ বলছে, কৃষি ব্যাংক তাদেরকে ঈদের পরে লোন দেওয়ার কথা থাকলেও হঠাৎ করে ব্যাংক লোন দিতে অনীহা প্রকাশ করে। যার জন্য আর্থিক সংকটে পড়েছে বাগান। এছাড়া সম্প্রতি বাগান থেকে কিছু চা পাতা উত্তোলন করে নিলামে বিক্রি করা হয় চট্টগ্রামে। বিক্রয়কৃত চায়ের মূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা। সেই টাকাও কৃষি ব্যাংকের গাফিলতির কারণে পাচ্ছে না বাগান পরিচালনা কমিটি।

তারাপুর চা-বাগান পরিচালনা কমিটির সম্পাদক শান্তনু দত্ত শন্তু বলেন, গত বুধবার বাগানে শ্রমিকরা কাজ করেন, কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে শ্রমিকরা মজুরি না পাওয়ায় কাজে যোগ দিচ্ছেন না। ফলে বাগান থেকে চা-পাতা তোলা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদেরকে লোন দেওয়ার কথা ছিল কৃষি ব্যাংকের। কিন্তু ব্যাংক লোন না পাওয়ায় আমরা বিপাকে পড়েছি। পরিচালনা কমিটি গত কয়েকমাসে বাগান পরিচালনা করতে গিয়ে প্রায় ২৯-৩০ লাখ টাকা দেনা নিয়ে বাগান পরিচালনা করে এখন আর্থিক সংকটে পড়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে তারাপুর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক অপু চক্রবর্তী বলেন, বাগানে নতুন চা পাতা তোলা যাচ্ছে না প্রায় ২ সপ্তাহ থেকে। কারণ শ্রমিকরা মজুরী পাচ্ছে না। বাগানে বিভিন্ন ধাপে প্রায় ১৪১ জন শ্রমিক কাজ করেন। আমাদেরকে বিপদে ফেলেছে কৃষি ব্যাংক। ঈদের পরে তারা লোন দিবে বলে আশ্বস্ত করলেও তারা এখন লোন দিচ্ছে না। এছাড়া শ্রমিকদের মজুরী পরিশোধ করার জন্য আমরা বাগান থেকে কিছু চা নিলামের জন্য চট্টগ্রামে পাঠিয়ে নিলাম করে প্রায় ৮ লাখ টাকা পাওয়ার কথা। সেই টাকাও কৃষি ব্যাংকের গাফিলতির কারণে পাচ্ছি না। যার জন্য বাগান বন্ধ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, টাকা পরিশোধ না করায় শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখেছে। সেই সাথে বাগান পরিচালনা কমিটির কাছেও এই মূহূর্তে কোনো টাকা নেই। জানুয়ারি মাসে পরিচালনা কমিটি প্রায় ৩০ লাখ টাকা দেনা করে বাগান চালিয়েছিলেন। সেই টাকাও পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাগানের প্রত্যেক শ্রমিককে ১ হাজার টাকা প্রনোদনা দেওয়া হলেও বাগান থেকে তাদেরকে কোনো সহযোগিতা করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, মজুরি না পাওয়ায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দেননি। কারণ মজুরি না পেলে শ্রমিকরা কাজ করবেন কীভাবে? শ্রমিকদের তো পরিবার আছে। শুধু কাজ করলেই হবে না, তাদের খেতেও হবে।

তিনি আরও বলেন, চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা জেলা প্রশাসকের নিকট আগামীকাল স্মারকলিপি দিতে পারি। কারণ আমরাও চাই বাগানের চলমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক। বাগান বন্ধ থাকা কিংবা চা-বাগানের ক্ষতি কেউই চায় না।

50% LikesVS
50% Dislikes
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ