সর্বশেষ

বিয়ানীবাজারের গজুকাটা সীমান্ত এলাকায় মসজিদ নির্মানকে কেন্দ্র করে বিজিবি-বিএসএফ’র মধ্যে যুদ্ধাবস্থা

বিয়ানীবাজারের গজুকাটা সীমান্ত এলাকায় মসজিদ নির্মানকে কেন্দ্র করে বিজিবি-বিএসএফ’র মধ্যে যুদ্ধাবস্থা

বিশেষ সংবাদদাতা : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মুদি বাংলাদেশ সফরে আসার প্রাক্কালে আগ্রাসী হয়ে উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। সিলেটের জুড়ি সীমান্তে গুলি করে বাংলাদেশীকে যুবককে হত্যা করে লাশ নিয়ে উল্লাস করার পর এবার ২শ বছরের পুরনো মসজিদ পুণ: নির্মাণে বাঁধা প্রদান করেছে বিএসএফ।

এ নিয়ে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার গজুকাটা সীমান্ত এলাকায় যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। বিএসএফ সীমান্ত এলাকায় ব্যাংকার খনন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিলে পাল্টা প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি। গত দুই দিন থেকে সীমান্ত এলাকায় এই অবস্থা বিরাজ করলেও সোমবার দিনভর ভারতীয় বাহিনী জিরো লাইনের ভেতরে প্রবেশ করে শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারি অস্ত্র মজুদ করেছে। বিজিবিও মসজিদ নির্মাণে বাঁধা দেওয়া ও ভারতীয় বাহিনীর আগ্রাসী ভুমিকার জবাব দিতে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

সীমান্ত এলাকা জুড়ে তারা শক্তি বৃদ্ধি করেছে। সব মিলিয়ে দু’পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আতংকিত অনেকে ইতিমধ্যে পরিবার নিয়ে বাড়ী ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান নিয়েছেন।

এদিকে বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে: কর্ণেল মো: শাহ আলম সিদ্দিকি জানিয়েছেন, ভারতীয় বাহিনী জিরো লাইনের ১৫০ গজের ভেতরে প্রবেশ করে কোন ধরণের বাঁধা প্রদান করতে পারে না। তারা সীমান্ত আইন লংঘন করে ২শ বছরের পুরনো মসজিদ পুণ:নির্মাণের বাঁধা প্রদান করেছে।
জানাযায়, বিয়ানীবাজার উপজেলার গজুকাটা সীমান্ত এলাকার ১৩৫৭ নং পিলারের ভেতরে বাংলাদেশ অংশে গজুকাটা গ্রামের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ২শ’ বছরের পুরনো পাকা ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপুর্ণ হওয়ায় এলাকাবাসী তা পুণ: নির্মাণের ব্যবস্থা করেন।

দুবাগ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আফতাব উদ্দিন বলেন, ২০১৮ ইং সনে মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রামবাসী নেওয়ার পর তারা বিজিবি’র সহায়তা চান। তৎকালীন বিজিবি-৩২ ব্যাটলিয়ানের কমান্ডার বিএসএফ’র কমান্ডারের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হলে তারা নির্মাণ কাজ শুরু করেন। কিন্তু নির্মাণ কাজের নিচ অংশের পিলার-লিন্টারসহ আনুষাঙ্গিক কাজ শেষে ছাদ ঢালাইয়ের জন্য প্রস্তুতির এক পর্যায়ে বিএসএফ সরাসরি বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করে মসজিদ নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান করে।

এদিকে দীর্ঘ ৩ বছর পর গত সাপ্তাহে বিজিবি-৫২’র সাথে বিএসএফ’র বৈঠকে মসজিদটি পুণ:নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা হয় এবং তা পুণ:নির্মাণ করতে বিএসএফ বাঁধা প্রদান করবে না বলে আশ^স্থ্য করে। কিন্তু এলাকাবাসী প্রবাসীদের সহযোগিতা নিয়ে মসজিদ নির্মাণের সকল প্রস্তুতি নিয়ে কাজ শুরু করলে শনিবার বিকেলে বিএসএফ তাতে বাঁধা প্রদান করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ নিয়ে বিজিবি’র পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের আহবান জানালেও বিএসএফ তাতে পাত্তা না দিয়ে সীমান্ত এলাকায় শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংকার খনন করে শক্ত অবস্থান নেয়। বিজিবি পাল্টা অবস্থান নিয়ে তাদের জবাবের প্রস্তুতি নিয়ে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছে।

সরেজমিন গজুকাটা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বিএসএফ জিরো লাইনের ১৫০ গজের মধ্যে ব্যাংকার খনন করে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তারা শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি টহলও বৃদ্ধি করেছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি ৫২ ব্যাটলিয়ান তাদের অবস্থান আরো দৃঢ় করে জবাবের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
মসজিদের ইমাম হাফিজ বিলাল আহমদ জানান, বিএসএফ এর বাধার পর থেকে নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে এলাকাবাসী জানিয়েছেন, যে কোন মূল্যে এবার তারা মসজিদ নির্মাণ করতে প্রস্তুত রয়েছেন।

দুবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বলেন, ২শ’ বছরের প্রাচীন এই মসজিদ নির্মাণ কাজে আমাদের সহযোগিতা রয়েছে। বিএসএফ মসজিদ নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান ও নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়ার সংবাদ আমাদেরকে মর্মাহত করেছে।

এ বিষয়ে বিজিবি-৫২’র কমান্ডিং অফিসার লে: কর্ণেল মো: শাহ আলম সিদ্দিকি জানিয়েছেন, বিএসএফ সীমান্তের ১৫০ গজের ভেতর মসজিদ নির্মাণ কাজে কোন ক্রমেই বাঁধা প্রদান করতে পারেন না। বিএসএফ এখানে বাঁধা দিয়ে অন্যায় করছে। তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে যে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন। তিনি জানান, গজুকাটা সীমান্তসহ তাঁর আওতাধীন সকল এলাকায় বিজিবি’র শক্তি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এদিকে সোমবার বিকেলে মৌলভীবাজারের জুড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশী বাপ্পার লাশ হস্তান্তর করেছে বিএসএফ। নিহতের ৪ দিনের মাথায় বিজিবি’র উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে ভারতীয় বাহিনী লাশ হস্তান্তরে বাধ্য হয়।

গত শনিবার ভোরে উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের পুর্ব বটুলী এলাকায় কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে বিএসএফ বাপ্পার বুকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর বিএসএফ বাপ্পার লাশ নিয়ে উল্লাস করে।

সীমান্ত সূত্র জানায়, বাপ্পাকে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ। তার বুকের মধ্যে গুলি বিদ্ধ হওয়ায় বিএসএফ এ নিয়ে প্রতিবাদের মুখে পড়বে এই আশংকায় লাশ গুম করে রাখে। পরে বিজিবি’র শক্ত অবস্থানের পর সোমবার বিকেলে লাশ হস্তান্তর করতে বাধ্য হয় বিএসএফ।

এ প্রসঙ্গে জানতে বিজিবি-৫২’র কমান্ডিং অফিসার লে: কর্ণেল মো: শাহ আলম সিদ্দিকি’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সোমবার বিএসএফ বাপ্পার লাশ হস্তান্তর করেছে। তার বুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত হয়েছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ