সর্বশেষ

মাটির নিচে বোমা থেকে গেলেও ঝুঁকি নেই : বিশেষজ্ঞ অভিমত

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের নিচে বোমা থেকে গেলেও তা ঝুঁকিপূর্ণ হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরপর পাঁচটি বিশাল আকৃতির বোমা উদ্ধারের ঘটনায় অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, যেসব বোমার সন্ধান মিলবে না, সেগুলোর কী হবে? যদি কখনো বিস্ফোরিত হয়! তবে উদ্ধার হওয়া বোমার ধরন দেখে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় আঘাত না লাগলে বোমাগুলো ফাটবে না। তাই এ নিয়ে আশঙ্কা নেই। শুধু নির্মাণকাজের সময় সতর্ক থাকলেই হলো।

গত ৯ ডিসেম্বর নির্মাণাধীন টার্মিনাল এরিয়ার মাটির নিচ থেকে ২৫০ কেজি ওজনের প্রথম বোমাটি উদ্ধার করা হয়। নির্মাণ শ্রমিকদের কাছে প্রথমে সেটি একটি লোহার সিলিন্ডার হিসেবে ধরা পড়ে। তবে বিমানবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা পরীক্ষার পর সেটিকে বিমান থেকে ফেলা জেনারেল পারপাস বোমা বলে শনাক্ত করেন। এরপর ১৪, ১৯, ২৮ ও ৩০ ডিসেম্বর আরো চারটি বোমা উদ্ধার করা হয়।

থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক এ কে এম মাকসুদুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ভাগ্যিস আমরা কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ছাড়াই বোমাটি পেয়েছিলাম। এরপরই আমরা সতর্ক হয়ে যাই। এখন বিমানবাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা স্ক্রিনিং করছেন। তারা কোনো একটি স্থান নিরাপদ বললেই আমরা সেখানে কাজ করছি। ফলে অনাকাক্সিক্ষত কোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কা নেই।

’৭১-এ বোমাগুলো ফেলা হয়েছিল ধারণা করে মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট সামছুল আলম বলেন, তখন কুর্মিটোলায় পাকিস্তানিদের একটি ঘাঁটি ছিল। ৪ ও ৫ ডিসেম্বর সেখানে মিত্রবাহিনীর ভারতীয় বিমানগুলো হামলা চালায়। রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ফেলা হয় বেশকিছু বোমা। সেগুলোর কিছু নরম মাটি ও ডোবায় পড়ে অবিস্ফোরিত থেকে গেছে। তিনি জানান, বোমাগুলো জেনারেল পারপাস (জিপি) বোমা, যেগুলো ফাটে শক্ত কিছুতে জোরে আঘাত লাগলে। তাই এত বছর পর শক্তিশালী কোনো আঘাত ছাড়া বিস্ফোরণ ঘটার আশঙ্কা নেই বললেই চলে।

একই কথা বলছেন অন্য বিশেষজ্ঞরাও। অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বলেন, আমার ধারণা বোমাগুলো কার্যক্ষমতা হারিয়েছে। বিশ্বের অনেক স্থানে এমন পুরনো বোমা পাওয়া যায়। সেগুলো নিজে থেকে বিস্ফোরিত হওয়ার কথা শোনা যায়নি। তিনি বলেন, এ ধরনের বোমা মোটা স্টিলের আবরণ দিয়ে মোড়ানো থাকে। বোমার ভেতরে একটা ব্যবস্থা থাকে। বোমাটি অনেক উপর থেকে পড়লে যে শক বা ধাক্কা লাগে, তাতে ওই ব্যবস্থা কার্যকর হয়ে বিস্ফোরণ ঘটে। মাটিতে ২০ থেকে ৩০ ফুট গভীর ক্ষত তৈরি হয় এ ধরনের বোমায়। মেয়াদকাল থাকে একশ বছরের কাছাকাছি। যদি পাইলিং করতে গিয়ে জোরে আঘাত লাগে, তাহলে বিস্ফোরিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আঘাত না লাগলে ফাটবে না। ধরা না পড়ে মাটির নিচে থেকে গেলেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই।

শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন তৌহিদ উল আহসান বলেন, এত বছর কাদামাটির নিচে থেকে বোমাগুলো অকার্যকর হয়ে গেছে বলে আমাদের মনে হচ্ছে। বোমাগুলো জং ধরা, এগুলো মাটির নিচে পড়ে থাকলেও সমস্যা হবে না। তবু নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে স্ক্রিনিংয়ের কাজ চলছে। সবগুলো বোমা মাটি থেকে বের করে ফেলতে চাই আমরা।

তিনি জানান, স্ক্রিনিং মেশিনগুলো সাধারণত ১০ থেকে ১৫ মিটার গভীর পর্যন্ত শনাক্ত করতে পারে। এর বেশি গভীরে কোনো বোমা থেকে গেলে সেগুলো হয়তো মেশিনে ধরা পড়বে না। তাই খননের বিভিন্ন পর্যায়েও স্ক্রিনিং করে নিচ্ছি, যেন কোনো বোমায় আঘাত না লেগে যায়। এর চেয়ে গভীরে বোমা থাকলেও ভয়ের কিছু নেই।

50% LikesVS
50% Dislikes
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ