সর্বশেষ

সিলিন্ডারের টুকরায় প্রাণ গেলো শিশু’র

শীতের ভোর। ঘড়ির কাটায় ভোর সকাল সাড়ে ৫টা। কেবলমাত্র ঘুম ভেঙেছে শিশু মেহেদী হাসানের। মাটি কাটা শ্রমিক মা বস্তির ঘুপচি ঘরের এক কোনে বসে রুটি তৈরি করছেন। আর ভ্যানচালক বাবা তখন গাড়ি সাফসুতরো করতে ব্যস্ত। রুটি তৈরি হলেই খেয়ে বের হবেন দু’জন।

এমন সময় একটা বিকট শব্দ হয়। শব্দ শুনে ঘর থেকে দৌড়ে বেরিয়ে আসে মেহেদী হাসান (৫)। কুয়াশার অন্ধকারে তার গন্তব্য ঠাওর করতে পারেন না বাবা-মা। কিছুক্ষণ পর ফিরে না আসায় তাকে খুঁজতে বের হন বাবা মঞ্জু মিয়া, মা মনতারা বেগম ও খালা মনবালা।

ঘর থেকে একটু সামনে এসেই খালা খুঁজে পান মেহেদীকে। মাটিতে পড়ে আছে ছোট শরীর। শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। প্রথমে তারা বুঝতে পারেননি। পরে অনতিদূরের আগুন এবং ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের তৎপরতা দেখে ঘটনা বুঝতে পারেন।

সাথে সাথেই তারা মেহেদীকে নিয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দিকে রওয়ানা দেন। কিন্তু ভোরে সড়কে নেই গাড়ি। ফলে সড়কেই অনেক দেরি হয়ে যায়। হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসকরা শিশু মেহেদীকে মৃত ঘোষণা করেন।

ছেলেকে হারিয়ে পাগল মা মনতারা বেগমের। চিৎকার করে কাঁদছেন। বিলাপ করে বলছেন, চোখের পলকেই হারিয়ে গেলে ছেলেটা। তাকে স্বান্ত¡না দিচ্ছেন স্বজনরা।

কথা হয় মেহেদীর খালা মনবালার সাথে। তিনি বলেন, ভোরে আমাদের ঘরের পাশে একটা এক্সিডেন্ট ঘটে। দুই গাড়ির এক্সিডেন্টের পর আগুন লেগে যায়। এই শব্দ শুনেই মেহেদি ঘরের বাইরে গিয়েছিলো। এ সময় গাড়ির বিস্ফোরিত সিলিন্ডারের একটি টুকরো এসে মেহেদীর ওপর পড়ে।

তিনি জানান, মেহেদীরা দুই বোন এক ভাই। দুই বোনের একমাত্র ভাই ছিলো মেহেদী। তাই সবার আদরের ছিলো সে। তাদের মূল বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে। গোলাপগঞ্জের হেতিমগঞ্জে একটি কলোনিতে বাবা-মা’র সাথে থাকতো সে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মোল্লাগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে ট্রাকের পেছনে নোহা মাইক্রোবাসটি ধাক্কা দেয়। এতে মাইক্রোবাস ও ট্রাকের ভিতরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক এলাকাবাসী জরুরী সেবা ৯৯৯ এ কল দিয়ে গোলাপগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসকে ডেকে আনেন। তারা এসে নিহতদের উদ্ধার করেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় কয়েকজনকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

সিলেট জেলা পুলিশের এএসপি (গোলাপগঞ্জ সার্কেল) রাশেদুল হক চৌধুরী বলেন, সিলিন্ডারের টুকরো ছিটকে পড়ে পাশের বস্তির এক শিশু মারা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে ১০০ ফুট দুরে সিলিন্ডারের টুকরো ছিটকে গিয়ে ওই শিশুটিকে আঘাত করে। নিহতদের লাশ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং আহতদের একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

50% LikesVS
50% Dislikes
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ