সর্বশেষ

ব্রিজ আছে সড়ক নেই

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের খালের উপর আছে কিন্তু দু’পাশে কোনো সড়ক নেই। সড়কবিহীন ব্রিজটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে। ব্রিজটির ম‚ল অংশের কাজ শেষ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো সঠিক পরিকল্পনা না থাকায় এটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এদিকে কয়েকটি গ্রামের ৫-৭ শতাধিক মানুষ চলাচল করে গিয়ে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

জানা যায়, জেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের সড়কটি দিয়ে বড়খলা, শাহপুর, আমড়িয়া, বালিজুড়ি, জামালপুরসহবেশ কয়েকটি গ্রামের বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৭ শতাধিক মানুষ চলাচল করে প্রতিনিয়ত। জামালপুর গ্রাম থেকে এই সড়কটি দিয়ে ১০০মিটার পশ্চিম-দক্ষিণ দিক দিয়ে সংযুক্ত হয় তাহিরপুর টু সুনামগঞ্জ সড়কের সাথে। এই সড়কটিতে প্রায় পাঁচ বছর প‚র্বে জামালপুর খালের উপর একটি ছোট ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ব্রিজের ম‚ল অংশের কাজ শেষ হওয়ার পর বন্যার কারণে দুই পাশের সংযোগ গাইড অংশের মাটি সরে গেছে। এই সংযোগ অংশের মাটি সরে যাওয়ার কারণে কয়েকটি গ্রামের মানুষ এই ব্রিজটি ব্যবহার করতে পারছেন না। বাঁশের সাঁকো তৈরি করে তার উপর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে কয়েকটি গ্রামের শত শত মানুষের।

এদিকে, এই এলাকায় বসবাসকারীরা বিভিন্ন ধরনের কৃষি পণ্য উৎপাদন করলেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পণ্য পরিবহন করতে না পারায় সঠিক ম‚ল্য পাচ্ছে না। ফলে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারা। অথচ সংশ্লিষ্টদের একটু নজরদারীতে এই ব্রিজটি ব্যবহারের উপযোগী হলে ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ ও ব্যবসা বাণিজ্য সহজ হতো।

এ ব্যাপারে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ জামাল হোসেন বলেন, প্রায় পাঁচ বছর পার হলেও ব্রিজটির ম‚ল অংশের দুই পাশের সংযোগ গাইডলাইনের পাশে মাটি না থাকায় আমরা এই ব্রিজটি ব্যবহার করতে পারছি না। ব্যবসায়ী নুরুল হক জানান, আমরা কয়েকটি গ্রামের মানুষ খুবই অবহেলিত। আমাদের গ্রামে নেই উন্নত মানের যোগাযোগ ব্যবস্থা। ব্রীজের সংযোগ সড়ক না থাকায় আমাদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। কৃষক আমিন মিয়া জানান, এই সড়কের ব্রীজটির সাথে সড়কের সংযোগ না থাকায় উৎপাদিত কৃষি পণ্য পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রকৌশলী মোঃ মাহবুব আলম জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই, আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাদিউর রহিম জাদিদ জানান, আমি নতুন যোগদান করেছি। আমি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে সমাধানের জন্য দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

50% LikesVS
50% Dislikes
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ