সর্বশেষ

আল্লামা কাসেমীর দাফন সম্পন্ন: জানাজায় মানুষের ঢল

হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর তুরাগ এলাকায় আল্লামা কাসেমীর প্রতিষ্ঠিত জামিয়া সুবহানিয়া মাহমুদনগর, ধউর, মাদরাসায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে সকাল ৯টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় ইমামতি করেন তার ছোট ছেলে মুফতি জাবের কাসেমী। এর আগে পরিবারের পক্ষ থেকে আল্লামা কাসেমীর ছোট ভাই মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস বড় ভাইয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, ‘জাতি আজ তার এক সু-সন্তানকে হারিয়েছে। আপনারা সবাই তার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করবেন।’

এ সময় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘আল্লামা কাসেমীর সঙ্গে আমার হৃদয়ের সম্পর্ক ছিল। তাকে হারিয়ে আমরা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হলাম তা বলা যাবে না।’ এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বাবুনগরী বলেন, ‘আল্লামা কাসেমী দেশের সবচেয়ে বড় অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও ঢাকা মহানগরীর সভাপতি ছিলেন। পরে তিনি মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছিলেন। উনি বাতিলের সঙ্গে আপোস করেননি। কোনো হুমকি-ধামকীতে ভয় করেননি। আমরা তার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবো ইনশাআল্লাহ।’

জানাজায় মুফতি মাওলানা শফিক আহমেদ কাসেমী, বাবুনগরী মাদরাসার মহাপরিচালক মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী, মুফতি দিলাওয়ার হুসাইন, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মহাসচিব অ্যাডভোকেট ফারুক রহমান, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, মাওলানা মামুনুল হক, মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি, মাওলানা জুনাইদ আল হাবীব, মুফতি হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী, খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবীসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ওলামা, রাজনীতিবিদসহ হাজারো মানুষ জানাজায় অংশ নেন।

জানাজায় অংশ নিতে হেফাজতকর্মীদের অনেকেই রোববারই ঢাকায় এসেছেন। ফজরের নামাজে অংশ নিয়েছেন বিপুল সংখ্যক মুসল্লি। জানাজা উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। জানাজার আগে বায়তুল মোকাররমের আশপাশের রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। সোমবার ভোরেই লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে বায়তুল মোকাররম এলাকা।
আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী রোববার দুপুরে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি … রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। আল্লামা কাসেমী ২০-দলীয় জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ছিলেন।
হেফাজতে ইসলাম প্রতিষ্ঠার পর থেকে নূর হোসাইন কাসেমী সংগঠনটির ঢাকা মহানগর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সংগঠনের আমির আল্লামা আহমদ শফির মৃত্যুর পর ১৫ নভেম্বর নতুন কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীকে আমির ও নূর হোসাইন কাসেমীকে মহাসচিব নির্বাচিত করা হয়। আল্লামা কাসেমী বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সিনিয়র সহ সভাপতি, আল-হাইয়া বোর্ডের কো-চেয়ারম্যান এবং জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদরাসার প্রিন্সিপাল ছিলেন।
আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী ১৯৪৫ সালের ১০ জানুয়ারি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার চড্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামের স্কুলে চতুর্থ শ্রেণি শেষ করে চড্ডার কাশিপুর মাদরাসায় ভর্তি হন। তার পর তিনি বড়ুরার মাদরাসায় হেদায়াতুন্নাহু জামাত শেষ করেন। এর পর ভারতের সাহারানপুর জেলার বেড়িতাজপুর মাদরাসায় জালালাইন জামাত পড়েন।

শিক্ষাজীবন শেষে কাসেমী দারুল উলুম দেওবন্দসহ বিভিন্ন মাদরাসায় অধ্যাপনা করেন। নূর হোসাইন কাসেমী ১৯৭৫ সালে জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৯০ সালে তিনি জমিয়তের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসেন। ২০১৫ সাল থেকে জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন। ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি খতমে নবুয়ত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

50% LikesVS
50% Dislikes
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ