সর্বশেষ

তৈরি হতে বললেন ফখরুল!

বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পরিবর্তনের ডাক আসছে। এজন্য আমাদেরকে তৈরি হতে হবে।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে নব্বইয়ের ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের উদ্যোগে ‘স্বৈরাচারের পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি’ দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে আমাদের জাতিকে ত্রাণ করতে হবে, বের করে আনতে হবে। আমি অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে একটা কথা বলতে চাই, আমাদের গ্রামের মানুষেরাও কিন্তু শক্তি এবং সাহস হারায়নি। আপনি গ্রামে যাবেন, তাদের জিজ্ঞাসা করবে। সবাই বলছে যে, কবে পরিবর্তন হবে, কবে ডাক আসবে? সেই ডাক আসছে। আমাদেরকে তৈরি হতে হবে।

‍‘এই আবদ্ধ ঘরের মধ্যে নয়, উন্মুক্ত আকাশের মধ্যে, রাজপথে আমাদের বীর সৈনিকেরা যেভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন, যেভাবে সমস্ত অন্যায়কে পরাজিত করে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, অসুন্দরকে পরাজিত করে সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজকে আমাদের তরুণ জেনারেশনকে সেভাবে এগুতে হবে।’

বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে শেষ ও ধ্বংস করে দিয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এখন নতুন করে তারা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। গতকাল কুষ্টিয়াতে আমাদের বিএনপির অফিস ভাঙচুর করে আবার সন্ধ্যার পরে আমাদের সাধারণ সম্পাদক তার যে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। এটা একটা গভীর চক্রান্তের নীল নকশার অংশ। বাংলাদেশে তারা আবার অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়। বাংলাদেশে তারা আজকে আবারো উদোরপিন্ডি বুদোড় ঘাড়ে চাপিয়ে গণতন্ত্রের সৈনিকদেরকে তারা পিছনে ফেলে দিতে ও নির্যাতন করতে চায়। এখন এই সময়ে যত অপকর্ম এটা আপনারা ছাড়া কে করতে পারেন- আপনারাই করতে পারেন। সেটা আপনারা তৈরি করছেন আপনারা ক্ষমতায় টিকে থাকবার জন্য।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, আমাদের নেত্রী কারাগারে। আর আমাদের নেত্রী এই নীরবে থেকেও, এই নীরবতায় আমাদেরকে শক্তি যোগাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি যে, তরুণরাই বদলায়, যুবকরাই বদলায়, সমাজ পরিবর্তন করে। আজকে মানুষ পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তন আপনাদেরকেই আনতে হবে। এই ৬ ডিসেম্বর আমাদের আমান উল্লাহ আমান সাহেবরা যে সাহস ও মেধা দিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের তরুণরাও মেধা ও সাহস দিয়ে সেই অসম্ভবকে সম্ভব করবেন।

হঠকারী কোনো সিদ্ধান্ত নয় মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আমাদের এগুতে হবে। আপনারা কখনোই হতাশ হবেন না। আর কখনো হঠকারী হবেন না। দুটোই মনে রাখতে হবে। হতাশ হওয়া যাবে না আবার হঠকারীও হওয়া যাবে না। ধৈর্য ধরে এগুতে হবে। এটা একটা লম্বা প্রক্রিয়া। মুহূর্তের মধ্যে গণতন্ত্র হয়ে যাবে না, মুহূর্তে মধ্যে নব্বই সালে যে বিজয় এসেছিলো সেই বিজয় আসতে দীর্ঘকাল সময় লেগেছে। এই পথ খুব বন্ধুর পথ, এই পথ আমাদের পাড়ি দিতে হবে। কোনো উপায় নেই।

স্বাধীনতার রজন্তী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৫০ বছর পূর্তি হচ্ছে আগামী মাসে। ফিফটি ইয়ার্স- রজতজয়ন্তী পালন করতে যাচ্ছে এই সরকার। আমরাও করছি। আমাদের করা আর তাদের করার মধ্যে পার্থক্য কী? যে তারা সেই ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার সেই মূল চেতনা গণতন্ত্র, তাকে যে তারা হত্যা করেছিলো স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে পরে। তারা আজকে আবার ক্ষমতায় বসে আছে। কিন্তু তারা আজকে স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী পালন করছে।

আওয়ামী লীগ সব খেয়ে ফেলছে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, এই সরকার একে একে সবকিছুকে ধ্বংস করেছে। আমাদের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, আমাদের বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নিয়েছে এবং রাষ্ট্রকে এখন তারা বিপন্ন করে ফেলেছে। রাষ্ট্র তো এখন নেই।

তিনি বলেন, অনেকে বলেন, আওয়াম লীগ গণতান্ত্রিক পার্টি। কোনোদিনই গণতান্ত্রিক পার্টি ছিলো না। ওদের রক্তের মধ্যে নেই, ডিএনএ‘র মধ্যে নেই। ওদের ডিএনএ‘র মধ্যে একটা নির্যাতনকারী ও নিপীড়নকারী। সুতরাং গণতন্ত্র ও আওয়ামী লীগ এক সাথে চলে না। কোনোদিন এক সাথে যায় না।

নব্বইয়ের ডাকসুর ভিপি আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এবং সাবেক ছাত্র নেতা আমিরুল ইসলাম আলীম ও শহিদুল ইসলাম বাবুলের পরিচালনায় সভায় সাবেক ছাত্র নেতাদের মধ্যে শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, হাবিবুর রহমান হাবিব, ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবির খোকন, জহির উদ্দিন স্বপন, মুস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সাইফুদ্দিন মনি, খন্দকার লুতফর রহমান, আসাদুর রহমান খান আসাদ, শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আজিজুল বারী হেলাল, শিরিন সুলতানা, মীর সরফত আলী সপু বক্তব্য রাখেন।

50% LikesVS
50% Dislikes
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ