সর্বশেষ

দেশে দেশে ম্যারাডোনার যত বান্ধবী ও সন্তান

ফুটবল খেলার মাঠে দিয়াগো ম্যারাডোনা অনেক নন্দিত হলেও মাঠের বাইরের কাজকর্ম দিয়ে কম আলোচনায় আসেননি তিনি। অ্যালকোহল ছিল সদ্য প্রয়াত ফুটবল কিংবদন্তির নিত্যদিনের সঙ্গী। আর্জেন্টাইন জাদুকর মজাচ্ছলে বেফাঁস মন্তব্যেও কম যান না। বহু ললনাকে প্রেমে হাবুডুবু খাওয়াতেও ওস্তাদ ছিলেন তিনি। আর্জেন্টিনাসহ ফুটবল ঈশ্বর প্রেমের সাগরে ভেসেছেন ইতালিতেও। ম্যারাডোনার সেই বান্ধবীদের অনেকের সন্তান-সন্ততিও হয়েছে। এই লেখায় সেসবই তুলে ধরা হবে। তর্কসাপেক্ষে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো খেলোয়াড় ম্যারাডোনা। গত ২৫ নভেম্বর পৃথিবীর মায়া কাটিয়েছেন তিনি।

২০০৬ সালে স্কুল শিক্ষিকা ভেরোনিকা ওজেদার সঙ্গে রোমান্সে জড়ান ম্যারাডোনা।

ঘুমের মধ্যই চিরতরে ওপারে পাড়ি জমান এই আর্জেন্টাইন। এবার সামনে আসছে তার পরিবার-পরিজনদের কথা। আকাশি-নীল জার্সিধারীদের ৮৬ বিশ্বকাপ জেতানোর নায়ক সর্বপ্রথম বিয়ে করেন ১৯৮৯ সালে। দীর্ঘদিনের প্রেমের পর ক্লাউদিয়া ভিলাফানের সঙ্গে বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বিয়ের আগেই ম্যারাডোনার এই সংসারে দুই মেয়ে সন্তানের আগমন হয়। ১৯৮৯ সালে জন্ম নেয়া জিয়ান্নিনা ম্যারাডোনা নামের এক মেয়েকে বিয়ে করেছেন ম্যানচেস্টার সিটির আর্জেন্টাইন ফুটবলার সার্জিও আগুয়েরো। এই দম্পতির সন্তানও এসে গেছে পৃথিবীতে। ম্যারাডোনা যাদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন তাদের মধ্য ক্লাউদিয়াকে নিয়ে বেশি দিন কাটিয়েছেন। প্রায় ২০ বছর এক সঙ্গে কাটিয়ে ২০০৪ সালে তার সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় ম্যারাডোনার। যদিও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই পরিবারের সবার সঙ্গে দিয়াগোর খুবই অন্তরঙ্গ সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল।

ক্রিস্টিনা সিনাগ্রার ঘরে জন্ম নেয়া ছেলের সঙ্গে ম্যারাডোনা।

প্রথম বিয়ের আগে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর বছরে জন্ম নেয় ম্যারাডোনার প্রথম সন্তান দিয়াগো সিনাগ্রা। ওই বছর সিনাগ্রার মা ক্রিস্টিনা সিনাগ্রার সঙ্গে ইতালিতে প্রথম পরিচয় ম্যারাডোনার। যদিও এই পরিবারের ব্যাপারে ২০০৪ সালের আগে ম্যারাডোনা কখনোই মুখ খুলতে চাননি।

১৯৯৩ সালে ইতালির আদালতের চাপের মুখেও কিছু না প্রকাশ করার ব্যাপারে অনড় থাকেন তিনি। ক্লাউদিয়ার সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর প্রথম ব্যাপারটি স্বীকার করেন। শুধু স্বীকার না, ওই সময় দিয়াগো সিনাগ্রার পিতা বলেই নিজেকে পরিচয় দেন ম্যারাডোনা। সিনাগ্রা এখন প্রফেশনাল ফুটবলার। কৈশোরে বাবার ক্লাব নাপোলিতে খেলাসহ তিনি ইতালির অনূর্ধ্ব-১৭ দলেও খেলেছেন।

শুধু বিংশ শতাব্দীই না, এই একবিংশ শতকেও ম্যারাডোনা জমিয়ে প্রেম করেছেন। ২০০৬ সালে তিনি প্রেমের সম্পর্কে জড়ান আর্জেন্টাইন মডেল ওয়ানদা নারার সঙ্গে।

ম্যারাডোনার বয়সের চেয়ে ওয়ানদার বয়সের ব্যবধান ছিল ২৬ বছর। তবে তাদের সেই সম্পর্কটি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ওয়ানদা বর্তমানে প্রেম করছেন আরেক আর্জেন্টাইন ফুটবলার মাউরো ইকার্দির সঙ্গে। ওয়ানদার বয়সের চেয়ে ইকার্দি আবার পাঁচ বছরের ছোট।

২০১৮ সালে রোসিও অলিভিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান ম্যারাডোনা।

২০০৬ সালের পর তিনি সম্পর্কে জড়ান আর্জেন্টাইন স্কুল শিক্ষিকা ভেরোনিকা ওজেদার সঙ্গে। ভিরোনিকার সঙ্গে তার ২০১১ সাল পর্যন্ত সম্পর্ক ছিল। ম্যারাডোনা ওই সময় ভিরোনিকাকে বাদ দিয়ে নিজের বয়সের চেয়ে ৩০ বছর কম বয়সী আর্জেন্টাইন তরুণী ফুটবলার রোসিও অলিভিয়ার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। ওই সময় রোসিওর বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। এতে ভিরোনিকার সঙ্গে তার সম্পর্ক ভেঙে যায়। ভিরোনিকার ঘরে দিয়েগো ফার্নান্দো নামে এক ছেলে সন্তান রয়েছে ম্যারাডোনার।

২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত রোসিও অলিভিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ম্যারাডোনার। এমনকি ২০১৮ সালে রোসিওর আঙ্গুলে বিয়ের আংটিও পরান তিনি। আর্জেন্টিনায় তাকে কিনে দেন বিলাসবহুল বাড়ি।

রাশিয়ায় ২০১৮ সালের বিশ^কাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচে অলিভিয়ার গ্যালারিতে ম্যারাডোনাকে সঙ্গও দিতে দেখা যায়। তবে হঠাৎ করে রূপ পাল্টে যায় রোসিওর। ম্যারাডোনা ২০১৮ সালে মেক্সিকোর একটি ক্লাবের কোচের দায়িত্ব পালন করছিলেন। ম্যারাডোনা তাকে মেক্সিকো থাকতে বললে দুজনের মধ্যে ঝগড়া বেধে যায়। এরপর ম্যারাডোনাকেই তার কেনা বাড়ি থেকে তাকে বের করে দেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে মামলাও করেন রোসিও।

50% LikesVS
50% Dislikes
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ