সর্বশেষ

উন্নয়ন প্রকল্পে সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
একনেকে ১০ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়ে সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে প্রকল্পের জন্য নতুন গাড়ি কেনা স্থগিত করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় আপ্যায়ন, বিদেশ ভ্রমণ ও অন্য যেকোনও কেনাকাটা বন্ধ করতে বলেছি। কিছু অর্থ সাশ্রয়ও হচ্ছে। যেমন জুমের মাধ্যমে এসব সভা করার ফলে আপ্যায়নসহ অনেক খরচ কমে গেছে। আগে এসব মিটিংয়ে বসে চা কেক খেতাম, এখন খাই না। আগে খাতা কলম নিতাম, এখন নেই না ইত্যাদি।
পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, জনপ্রতিনিধিরা সবাই ঘরে ঘরে বা বাড়ির সামনে একটি করে সেতু চান। এতে অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দুই দিক থেকেই ক্ষতি হয়। তাই এখন থেকে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের বিষয়ে ভালোভাবে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, আমাদের দেশে এখন অনেক সেতু হয়েছে। আর লাগবে না। তাই যত্রতত্র সেতু নির্মাণ না করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জমির মালিকানা নিষ্কণ্টক হতে হবে। এ জন্য ভূমি ব্যবস্থাপনা উন্নত করা জরুরি। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জমি সুরক্ষায় উদ্যোগ নিতে হবে। মোট কথা ভূমি ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হবে।
এদিকে, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রায় ১০ হাজার ১০২ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ৮টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে (জিওবি) ১০ হাজার ৬৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা যোগান দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। শেরে বাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। একনেক সভা শেষে এ তথ্য সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
অনুমোদিত প্রকল্পসমূহ হলো ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নসহ নর্দমা ও ফুটপাথ নির্মাণ ২য় সংশোধিত’ প্রকল্প, ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার নির্মাণ ও উন্নয়ন (ফেজ-১)’ প্রকল্প, ‘তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি’ প্রকল্প, ‘সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ’ প্রকল্প, ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ করার জন্য ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের ডিজিটাল জরিপ পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্প, ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন’ প্রকল্প, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্প (২য় পর্যায়)’ প্রকল্প এবং ‘বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন রংপুর জোন’ প্রকল্প।

50% LikesVS
50% Dislikes
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ