সর্বশেষ

আবারো জগন্নাথপুরবাসী পানি বন্দী

 

চার দিন ধরে প্রবল বর্ষন আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জগন্নাথপুরে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির ফের অবনতি হয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে । বাড়ি-ঘর আর রাস্তা -ঘাট বন্যার জলে টইটম্বুর। অন্যান্য নদ-নদী ও হাওরে পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। যদিও বন্যার উন্নতি হয়েছিল।

বিগত জুন মাসের ২৫ তারিখ থেকে জগন্নাথপুর উপজেলায় দেখা দেয়া বন্যায় জগন্নাথপুর পৌর এলাকা সহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাড়ী-ঘর বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার পরিবার। এরপর মাঝখানে কয়েক দিন বৃষ্টি কম হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়। কিন্তু গত ৪ দিন ধরে আবারো ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে উজান থেকে ব্যাপক পরিমাণে পাহাড়ি ঢল নামায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ফের হয়েছে।

আজ ১২ ই জুলাই খোঁজ নিয়ে জানা যায়, থেমে থেমে প্রবল বৃষ্টিপাত আর উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ী ঢলে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা, নলজুর, রত্না ও ডাউকা নদী সহ বিভিন্ন নদ-নদী ও হাওর এর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের নাদামপুর, হিজলা, কান্দারগাঁও, নোয়াগাঁও, সাদিপুর, কামারখাঁল, জগদীশপুর, কাদিপুর, পাড়ারগাঁও, মোল্লারগাঁও, খাশিলা সুনাওয়াখাই, যোগলনগর, চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের ভুরাখালী, দাসনাগাঁও, হরিনাকান্দি, সমধল, বেতাউকা, গাদিয়ালা, স্বজনশ্রী, বাউধরন, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের নোয়াগাঁও, আলমপুর, গন্ধর্ব্বপুর, অনন্তপুর, নারিকেলত রৌয়াইল, বাঘময়না, আশারকান্দি ইউনিয়নের বড়ফেচি, মিলিত, মিঠাভরাং, কালাম্বরপুর, ঐয়ারকোণা, ধাওরাই, আটঘর, পাইলগাঁও ইউনিয়নের কাতিয়া, ফেচি, কসবা, রমাপতিপুর, মশাজান, জগন্নাথপুর পৌর এলাকার আলখানাপার, হবিবনগর, ভবানীপুর ও পূর্ব ভবানী পুর সহ প্রায় ৩০ টি গ্রামের মানুষ আবারো পানি বন্দী হয়ে পড়েছেন। এতে এসব গ্রামের প্রায় ১০ হাজার ঘর-বাড়িতে পানি উঠেছে। তলিয়ে গেছে গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট এবং মৎস্য খামার। অনেকেই উঁচু এলাকায় আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ীতে ও বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

পাগলা -জগন্নাথপুর -আউশকান্দী আঞ্চলিক মহাসড়ক এর ইছগাঁও এলাকায় পানিতে ডুবে যাওয়া সহ বেশ কয়েকটি সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফের দেখা দিয়েছে জন-ভোগান্তি।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের পানি বন্দী অনেকেই বলেন, কয়েক দিন আগেও বসত বাড়িতে পানি উঠেছিল। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আকস্মিক বন্যার জল নেমে পড়েছিল। গত ৪ দিন ধরে আবারো ভারী বর্ষন হওয়ায় ফের নতুন করে বসত বাড়ি আর রাস্তা -ঘাটে পানি উঠে পড়েছে। ভীষন কষ্টে দিনাতিপাত করছি। চারদিকে পানিতে টইটম্বুর।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, বন্যা পরিস্থিতির খোঁজ খবর নিচ্ছি। প্রতিটি ইউনিয়নে দুটি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান এবং মেম্বারগন এর সঙ্গে কথা বলে আশ্রয় কেন্দ্র গুলো ব্যবহার করা যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, এখনো বন্যার্তদের মাঝে ত্রান দেওয়া হয়নি। তবে শ্রীঘ্রই পানি বন্দী মানুষের মাঝে ত্রান দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করা হবে।

50% LikesVS
50% Dislikes
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ