সর্বশেষ

সমালোচনার মুখে মালয়েশিয়ার সরকার

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চলাকালীন ‘লকড আপ ইন মালয়েশিয়া’স লকডাউন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। অভিবাসীদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে করা এই প্রতিবেদন সম্প্রচার করায় অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিকদের একটি দলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে মালয়েশিয়া পুলিশ।

এ ছাড়া ওই প্রতিবেদনে সাক্ষাৎকার দেন মো. রায়হান কবির নামে এক বাংলাদেশি। তাকেও খুঁজছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।

আল জাজিরায় প্রচারিত ‘১০১ ইস্ট’ অনুষ্ঠানে ২৫ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ওই প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় চলাকালীন লকডাউনে গরীব, দুস্থ, সহায়তাকামী অবৈধ অভিবাসীদের সঙ্গে সেখানকার পুলিশের আচরণ নিয়ে কথা বলেন রায়হান।

আল জাজিরাকে রায়হান বলেন, ‘পুলিশ তাদের ধোঁকা দিচ্ছে। খাবার, পানি, সহায়তা দেওয়া হবে বলে তাদের ডেকে নিয়ে যাচ্ছে। তারা জানেও না তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। তাদের একটাই দোষ, তাদের কাছে কোনো বৈধ কাগজ নেই।’
তার এক বন্ধুকেও গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে মালয়েশিয়া পুলিশ। রায়হান বলেন, ‘আমি থানায় গিয়েছিলাম, ইমিগ্রেশনে গিয়েছি। তাদের কাছে অনুরোধ করেছি; একটাবার অন্তত আমার বন্ধুর সাথে দেখা করতে দিন। তারা শোনেননি।’

সংবাদমাধ্যমটির ইউটিউব চ্যানেলে প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর থেকে সমালোচনা শুরু হয়। তবে দেশটির সরকার এমন অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।

এদিকে এ ঘটনার পর থেকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে মালয়েশিয়ার সরকার। তাদের দাবি, ডকুমেন্টারিটি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তথ্যগুলো সঠিক নয়। এতে জড়িত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানহানি ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত করছে পুলিশ। যে কারণে অনুসন্ধানধর্মী ডকুমেন্টারি শো ‘১০১ ইস্ট’র কাজে জড়িত বেশ কয়েকজন অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিককে আজ শুক্রবার কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার পুলিশের প্রধান কার্যালয়ে ডাকা হয়।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আল-জাজিরার একজন প্রতিবেদক, এক প্রযোজক ও একজন ক্যামেরাপারসনকে কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার পুলিশের প্রধান কার্যালয়ে ডাকা হয়। দুজন স্টাফ ও নিজেদের আইনজীবীদের নিয়ে তারা সেখানে গিয়েছেন।

এ ঘটনায় ‘বিস্ময়’ প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘পেশাদারি, গুণমান ও নিরপেক্ষতা’ নিরিখেই আমরা সাংবাদিকতা করি। আল-জাজিরার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্ত হচ্ছে। এতে আল-জাজিরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সাংবাদিকদের কাজের জন্য তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা গণতন্ত্রের কাজ নয়, এটা বাক্‌স্বাধীনতার অন্তরায়। সাংবাদিকতা সন্ত্রাসী নয়।’

শুধু আল-জাজিরা নয় সম্প্রতি দেশটির শীর্ষ সারির একটি নিউজ পোর্টালের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে।

50% LikesVS
50% Dislikes
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ