সর্বশেষ

সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিপাত
পাহাড়ী ঢলে ভেসে গেছে ৭টি ইউনিয়নের কোটি টাকার মাছ

সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিপাত ও বন্যায় পাহাড়ী ঢলে তাহিরপুর উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নের ৭০টি পুকুরের পোনা ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গিয়ে ও অবকাঠামো মিলে প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানান মাছ চাষীরা। আর ক্ষতিগ্রস্ত চাষীরা বিভিন্ন এনজিও ও সরকারিভাবে ঋণ, কেউ ধার দেনা করে আবার অনেকেই চড়া সুদে ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করে মাছ বিক্রির টাকায় জীবিকা নির্বাহ করত।

বন্যায় মাছ ভেসে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত মাছ চাষীরা সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পরেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মাছ চাষীদের পুনবার্সনে জন্য সরকারিভাবে সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা ও উপজেলার সচেতন মহল।
তাহিরপুর উপজেলা মৎস্য বিভাগ থেকে জানা যায়, গত শুক্রবার থেকে পাহাড়ী ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়। এতে অব্যাহত ভাবে ডুবতে তাকে জেলার তাহিরপুর উপজেলার ৭০টি মাছ চাষের পুকুর। আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে যাওয়া পুকুরের মধ্যে সদর তাহিরপুর, বাদাঘাট, উত্তর বড়দল, দক্ষিণ বড়দল, উত্তর শ্রীপুর, দক্ষিণ শ্রীপুর, বালিজুড়ী ইউনিয়নের ৩৯জন মৎস্যচাষীর পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় মাছ ও পোনা ভেসে গেছে। এর মধ্যে বাদাঘাট, উত্তর বড়দল, উত্তর শ্রীপুরে ক্ষতির পরিমাণ বেশী। ক্ষতির পরিমান ৬৫লাখ টাকা। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থ মৎসচাষীরা বলছে তাদের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় কোটি টাকার বেশী।

বৃহস্পতিবার এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত উপজেলার ১৪.৮হেক্টর আয়তনের ৭০টি পুকুরে একশত মৎস্যচাষী মাছ চাষ করেছে এর মধ্যে ৩৯জন চাষীর বন্যার পানিতে মাছ ভেসে গেছে। এর মধ্যে ৩৬মেট্রিক টন মাছ, আড়াই মে.টন পোনা ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতিসহ মোট ক্ষতির পরিমান ৬৫লাখ টাকা।
এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মাছ চাষীদের তালিকা তৈরী করে উর্ধবতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাহিরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ সারোয়ার হোসেন। সরকারি ভাবে কোন সহায়তা এলেই ক্ষতিগ্রস্থদের দেওয়া হবে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে আর তালিকা তৈরীর কাজ শেষ হলে পরবর্তীতে পদক্ষেপ নেয়া হবে জানিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, বন্যায় জেলার ১১ উপজেলার ২ হাজার ৮ শত ৪৬টি পুকুরের মাছ ও পোনা ভেসে গেছে। মাছ ও অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে ২১কোটি ৪৫লাখ টাকার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ