সর্বশেষ

রোদ উঠলেই মুখে ফুটে হাসির রেখা সুনামগঞ্জে

সুনামগঞ্জের আকাশে কখনো রোদ, কখনো অঝোর ধারায় বৃষ্টি। আকাশে রোদ উঠলেই মুখে ফুটে হাসির রেখা। বৃষ্টি হলেই পাহাড়ী ঢলে ডুবে যাওয়ার শংকা জাগে মনে। এ দোলাচলে দু:সহ জীবন যাপন করতে হচ্ছে হাওরপাড়ের বাসিন্দাদের। গত ২দিন থেকে বৃষ্টি আর রোদের দেখা মিলছে আকাশে। পানিও কমতে শুরু করেছে। আগের চেয়ে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

তবে জেলার কয়েক লক্ষাধিক মানুষ এখনো পানিতে বন্দি হয়ে আছেন। এবং অনেক নিম্নাঞ্চলের ভিটে বাড়ীতে পানি ঢুকে আবার সরে যায়। কখন বন্যার এ কবল থেকে মুক্তি মিলবে এ চিন্তায় এখন তারা দিন গুজরান করছেন। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে।

সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কের উজ্জ্বলপুর এলাকায় বিশাল ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় যোগাযোগ বন্ধ হয়ে আছে। তারা এখন নৌপথে জেলা শহরে যাতায়াত করছেন। এদিকে তাহিরপুরের আনোয়ারপুর ব্রীজ এলাকায় ভাঙ্গন এবং বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা রাস্তায় ভাঙ্গন সৃষ্টি হওয়ায় এ তিন উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়নের হোসেননগর গ্রামে পানি ঢুকে পড়ায় ৩০টি অসহায় পরিবার ভিটেবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের পাশে দাঁড়ানোর মত কাউকে এখনও দেখা যায়নি।

জেলার সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে মৎস্য খামারীদের। সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রায় ২১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে মৎস্য খাতে। বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী ৩০ কোটি টাকার মত হবে বলে জানিয়েছেন খামারীরা। তারা অনেকেই ব্যাংক ঋণ, দেনা এবং ফিড কোম্পানির কাছ থেকে বাকিতে মৎস্য খাবার কিনেছিলেন। এসব কিভাবে পরিশোধ করবেন চিন্তায় মাথায় হাত।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: আবুল কালাম আজাদ বলেন, জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মৎস্যখাতে। আমরা ক্ষতিগ্রস্থ খামারিদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করে ঢাকায় প্রেরণ করব। জেলা প্রশাসক মো: আব্দুল আহাদ বলেন, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। নগদ ২০ লক্ষ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক চাল বরাদ্দ রয়েছে। ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ