সর্বশেষ

দেশে একদিনে শনাক্ত ৩৭৭৫, মৃত্যু ৪১

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৪১ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে মহামারি করোনা (কোভিড-১৯)। ফলে ভাইরাসটিতে মোট ১৮৮৮জন মারা গেলেন। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরো ৩ হাজার ৭৭৫ জন। ফলে আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ২৫৮জনে।

বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৪৮৪ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছেন ৬২ হাজার ১০২ জন। এখন পর্যন্ত দেশে নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২১.১২ শতাংশ, মৃত্যুর হার ১.২৬ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ৪১.৬১ শতাংশ।

তিনি জানান, নতুন করে আরেকটি পরীক্ষাগার যুক্ত হয়েছে। সেটি গাজীপুরে। এ নিয়ে ৬৯টি ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। এই সময়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয় ১৬ হাজার ৮৯৮টি। এরমধ্যে আগের নমুনা মিলে পরীক্ষা করা হয়েছে ১৭ হাজার ৮৭৫টি।

অধ্যাপক নাসিমা বলেন, মৃত ৪১ জনের মধ্যে ৩৮ জন পুরুষ ও তিনজন নারী। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭ জন, খুলনা বিভাগে পাঁচজন, রংপুর বিভাগে একজন, সিলেট বিভাগে দুইজন এবং বরিশাল বিভাগে তিনজন। এরমধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ২৩ জন। বাসায় মারা গেছেন ১৮ জন।

তাদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে একজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে পাঁচজন ও ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে চারজন।

তিনি আরও বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৯৫৫ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৫৫৫ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন ২৭ হাজার ৫৪২ জন। মোট ছাড় পেয়েছেন ১১ হাজার ৯৯৫ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৫ হাজার ৫৪৭ জন

এসময় তিনি সবাইকে স্বাস্থ্য পরামর্শ মেনে ঘরে থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি পুষ্টিকর খাবার গ্রহণেরও পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে করোনার এই মহামারিতে যারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

এর আগে মঙ্গলবারের বুলেটিনে জানানো হয়, দেশে চব্বিশ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরো ৩ হাজার ৬৮২ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৪৮৩ জনে। এ সময়ের মধ্যে মারা গেছেন আরো ৬৪ জন। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১৮৪৭।

সে সময় নাসিমা বলেন, করোনা শনাক্তের হার ১৯.৯৮ শতাংশ। মোট শনাক্তের হার ১৮.৯৮ শতাংশ। এসময় ৬৬টি পরীক্ষাগারে এসব নমুনা পরীক্ষা করা হয় বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, চীনের উহান থেকে বিস্তার শুরু করে গত চার মাসে বিশ্বের ২১৫টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। চীনে করোনার প্রভাব কমলেও বিশ্বের অন্য কয়েকটি দেশে মহামারি রূপ নিয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৪ লাখ ২১ হাজার ৪৯০ জন। মারা গেছেন ৫ লাখ ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ। তবে ৫৬ লাখ ৭৯ হাজারেরও বেশি রোগী ইতিমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

করোনা মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ