সর্বশেষ

জগন্নাথপুরে প্রায় ২৫টি গ্রামের মানুষ পানি বন্দী, ভেসে গেছে মৎস্য খামার

 

প্রবল বর্ষণ আর পাহাড়ী ঢলে জগন্নাথপুরের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে বাড়ী-ঘর ও মৎস্য খামার পানির নীচে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। আকস্মিক বন্যায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন জনসাধারণ। প্রস্তুত রয়েছে প্রশাসন।

বিগত চার দিন ধরে টানা বৃষ্টিপাত আর উজান থেকে দেয়ে আসা পাহাড়ী ঢলে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা, নলজুর,রত্না ও ডাউকা নদী সহ বিভিন্ন নদ-নদী ও হাওরে পানি বেড়েই চলছে। আজ সোমবার (২৯ শে জুন) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের কান্দারগাঁও, নোয়াগাঁও, সাদিপুর, কামারকামারখাঁল, জগদীশপুর, কাদিপুর, পাড়ারগাঁও, মোল্লারগাঁও, খাশিলা সুনাওয়াখাই, চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের ভুরাখালী, দাসনাগাঁও, হরিনাকান্দি, সমধল, বেতাউকা, গাদিয়ালা, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রৌয়াইল, বাঘময়না, আশারকান্দি ইউনিয়নের বড়ফেচি, মিলিত, মিঠাভরাং, কালাম্বরপুর, ঐয়ারকোণা, ধাওরাই, আটঘর, পাইলগাঁও ইউনিয়নের কাতিয়া, ফেচি, কসবা, রমাপতিপুর, মশাজান, জগন্নাথপুর পৌর এলাকার আলখানাপার, হবিবনগর সহ প্রায় ২৫টি গ্রামের মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছেন। এসব গ্রামের ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। তলিয়ে গেছে গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট এবং মৎস্য খামার। অনেকেই উঁচু এলাকায় আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছেন। বেশ কয়েকটি সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সতর্ক রয়েছেন প্রশাসন সহ জন সাধারণ।

উপজেলার যোগলনগর গ্রাম নিবাসী মোঃ মর্তুজ আলী সহ অনেকেই জানান, বাড়ী-ঘর বানের জলে টইটম্বুর। কলকলিয়া, আশারকান্দি, চিলাউড়া হলদিপুর, আশারকান্দি ও রানীগঞ্জ ইউনিয়ন এর বেশ কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে।
কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এর সচিব মোঃ শামসুল আলম বলেন, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কলকলিয়া ইউনিয়ন এর প্রায় ১৫ টি গ্রামের ২/৩ হাজার মানিক পানি বন্দী হয়ে পড়েছেন। গ্রামীণ সড়ক পানির নীচে তলিয়ে গেছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়কে অবহিত করব।

আহছানউল্লা মৎস্য খামারের পরিচালক সাদিপুর গ্রাম নিবাসী মোঃ কাছা উদ্দীন একান্ত আলাপকালে বলেন, দেখতে পাচ্ছেন আকস্কিম বন্যায় আমার মৎস্য খামার বানের জলে ভেসে গেছে। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
দাসনোয়াগাঁও গ্রাম নিবাসী মোঃ জুলহাস মিয়া, বাঘময়না গ্রাম নিবাসী তোফায়েল ও বালিকান্দী গ্রাম নিবাসী মোঃ ইকবাল হোসেন সহ অনেকেই বলেন, মুশলধারে বৃষ্টিপাত হওয়ায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়া ইতিমধ্যে স্কুল আঙ্গিনা সহ বিভিন্ন বাড়ী ঘরে পানি উঠে পড়েছে এবং রাস্তা -ঘাট পানির নীচে তলিয়ে গেছে । ক্রমান্বয়ে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।আকস্মিক বন্যায় আতঙ্কে আছেন।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, উপজেলার সকল জন-প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন প্রস্তুত আছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ