সর্বশেষ

জনগণের ওপর চাপ দিয়ে সরকার কর আদায় করছে : মির্জা ফখরুল

করোনাভাইরাসের এই ভয়াবহতার মধ্যেও জনগণের ওপর চাপ দিয়ে সরকার কর আদায় করছে বলে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই দুঃসময়ে বিদ্যুৎ বিল, ইনকাম ট্যাক্স, অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স, মিউনিসিপ্যাল ট্যাক্স ও অন্যান্য যেসব ট্যাক্স আছে তা আপাতত বন্ধ করা উচিত।

কারণ, এখন মানুষের পক্ষে এসব ট্যাক্স দেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই ট্যাক্সগুলো এখন আরো চাপ দিয়ে জনগণের কাছে থেকে আদায় করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরার নিজ বাসা থেকে করোনাভাইরাস পর্যবেক্ষণ সেলের এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এতে আরও যুক্ত ছিলেন- বিএনপি গঠিত করোনাভাইরাস পর্যবেক্ষণ সেলের আহ্বায়ক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও করোনা সেলের সমন্বয়ক ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, করোনার এই দুঃসময়েও বিদ্যুতের ভৌতিক বিল তৈরি করা হচ্ছে। অবিলম্বে এই সব বিল আদায় আপাতত বন্ধ করা এবং ওইসব বিল সংশোধন করার জন্য দাবি জানাচ্ছি।

করোনায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে মহাসচিব বলেন, সারাদেশে আক্রান্ত হয়েছে ২৮৪ জন নেতাকর্মী। করোনাকালে বিএনপির কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি জানান, গত ২০ মার্চ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনসমূহ সারাদেশে ৫৪ লক্ষ ১২ হাজার ৪১৬টি পরিবারকে খাদ্য সামগ্রিসহ আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছে। এতে ২ কোটি ১৬ লাখ ৪৯ হাজার ৬৬৪ জন মানুষ উপকৃত হয়েছে। বিএনপির বাইরে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনসহ দলের নেতৃবৃন্দও কয়েক লক্ষ মাস্ক, স্যানিটাইজার, সাবান ও পিপিই বিতরণ করেছে।

করোনাভাইরাস নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সারাদেশ আজ মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে। সরকারি হিসেবেই ইতোমধ্যে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়েছে। মারা গেছেন ১৫৪৫ জন। গত ২ সপ্তাহে প্রতিদিনই গড়ে মারা যাচ্ছেন ৪১ জন মানুষ। অথচ ১ম দেড় মাসে প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যা ছিলো ১০ জনের নিচে। সরকারের যথাযথ পরিকল্পনা না থাকায় দিন দিন বাড়ছে লাশের সারি। একইভাবে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও। প্রায় প্রতিদিনই শনাক্ত হচ্ছেন সাড়ে ৩ হাজারের মতো মানুষ। যদিও একদিনে পরীক্ষা করা হচ্ছে মাত্র ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার নমুনা। যদি পরীক্ষার সংখ্যা বাড়তো তবে কোথায় গিয়ে দাঁড়াতো আক্রান্তের সংখ্যা, সেটি সহজেই অনুমান করা যায়।

মির্জা ফখরুল বলেন, চিকিৎসা সেবার নামে যে হরিলুট চলছে সেটি নিয়েও মাথাব্যথা নেই সরকারের। বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে একজন সাধারণ মানুষও বুঝতে পারছেন দেশের স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো কতটা ভঙ্গুর। জনসংখ্যার ঘনত্বে শহরাঞ্চলেও বিস্ফোরনের আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। চীনা বিশেষজ্ঞরা রীতিমতো অবাক হয়েছেন বাংলাদেশের পরিস্থিতি দেখে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপসহ সার্বিক পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন চীনা বিশেষজ্ঞ দল। নমুনা পরীক্ষা কম হওয়া এবং বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে লকডাউন হচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন তারা। জনমনে ধারণা গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে যে মৃত ও আক্রান্তের সঠিক চিত্র লুকিয়ে রাখছে ক্ষমতাসীনরা। গণস্বাস্থ্যের আবিষ্কৃত কীটের সফলতা ৭০ শতাংশ হলেও তা ব্যাপক ব্যবহারের মাধ্যমে এন্টিবডি টেস্ট করা হচ্ছে না। শোনা যাচ্ছে, বিদেশ থেকে কীট আদমানির করতে চায় স্বাস্থ্য বিভাগ। দেশে স্বল্পমূল্যে কীট থাকা সত্ত্বেও কেন বাইরে থেকে আনতে হবে? এর পেছনে কী কমিশন বাণিজ্য লুকিয়ে আছে?

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ