সর্বশেষ

নবীগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগ

নবীগঞ্জে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের বরাদ্দকৃত ১০ টাকা কেজির চাল আত্মসাতের ঘটনার পর এবার গজনাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুলের বিরুদ্ধে ভিজিডির চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুই নারী হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঘটনা খতিয়ে দেখার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুল নবীগঞ্জ উপজেলো উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিও।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার গজনাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুল প্রায় দেড় বছর ধরে ভিজিডির সুবিধাভোগী দুই নারীর নামে বরাদ্দকৃত (প্রতি মাসে ৩০ কেজি) চাল ভিজিডির চাল আত্মসাৎ করে আসছেন।

জানা যায়, ওই ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের শাহেলা আক্তার সালমা ও সালেহা বেগম প্রায় দেড় বছর পূর্বে ভিজিডির চালের তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুলের কাছে ছবি ও ভোটের আইডি কার্ড দেন।

এ সময় চেয়ারম্যান তাদেরকে বলেন, তালিকাটি চূড়ান্ত অনুমোদন হয়ে আসলে তারা চাল পাবে। চেয়ারম্যানের এমন আশ্বাসে আনন্দিত হন দরিদ্র পরিবারের এ দুই নারী। এরপর তালিকাভুক্তদের চাল বিতরণ শুরুর খবর পেয়ে চেয়ারম্যানের নিকট যান। চেয়ারম্যান মুকুল তাদেরকে অপেক্ষা করতে বলেন।

অনেকদিন অতিবাহিত হলে দুই নারী চালের জন্য চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করেন। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান মুকুল তাদেরকে বলেন, তাদের নাম তালিকায় উঠেনি, তাদেরকে চাল দেয়া যাবে না।

সুবিধাবঞ্চিত এই দুই নারী বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে তারা জানতে পারে তালিকায় তাদের নাম রয়েছে। তাদের নামে বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করছেন চেয়ারম্যান মুকুল। পরে গজনাইপুর ইউনিয়নের ভিজিডির তালিকা সংগ্রহ করে দেখা যায়, তালিকায় ক্রমিক নং ৫২ তে শাহেলা আক্তার সালমা ও ৫৬ নম্বরে সালেহা বেগম নাম রয়েছে। স্বামীর নাম, গ্রামসহ সব মিলিয়ে দেখা যায় তাদের নামে আসা সরকারি চাল আত্মসাৎ হয়েছে। বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে অসহায় অবস্থায় পরিবার নিয়ে না খেয়ে অনাহারে দিন কাটছে তাদের। এমন অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী দুই নারী মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।

উল্লেখ্য, গজনাইপুর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির চাল নিয়ে আত্মসাতের ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি তদন্ত শুরু করেছে। এরই মধ্যে নতুনভাবে ভিজিডির চাল আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে তুমুল সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ