সর্বশেষ

আসছে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ

চলমান করোন মহামারী শেষে পৃথিবীজুড়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। এরইমধ্যে পৃথিবীর বেশ কিছু অঞ্চলে তীব্র খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে। তাই এখনি কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বিশ্ববাসী এক ভয়াবহতম দুর্ভিক্ষের সাক্ষী হবে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল ৩০টি দেশে এই দুর্ভিক্ষ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে সবাইকে হুশিয়ার করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।
সংস্থাটির প্রধান ডেভিড বিসলের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানায়, চলমান মহামারীর কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটে বিশ্বজুড়ে প্রায় সাড়ে ২৬ কোটি মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়তে পারে, যা হবে বর্তমানের দ্বিগুণ। নিরাপত্তা পরিষদে এক ভিডিও কনফারেন্সে ডেভিড বিসলে বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এবারই প্রথম গোটা মানব সভ্যতা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন। সিরিয়া, ইয়েমেনসহ একাধিক দেশে যুদ্ধ, আফ্রিকায় পঙ্গপালের হানা, লেবানন, কঙ্গো, সুদান ও ইথিওপিয়ায় একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং লকডাউনের কারণে অর্থনৈতিক মন্দা বিশ্বকে দুর্ভিক্ষের
মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিশ্বে এখনো প্রায় ৮৩ কোটি মানুষ রাতে তীব্র ক্ষুধা নিয়ে ঘুমাতে যায়। সাড়ে ১৩ কোটি মানুষ প্রায় অনাহারেই থাকছে। এর মধ্যেই করোনা পরিস্থিতির জেরে চলতি বছরের শেষে আরও ১৩ কোটি মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়তে পারে। তাই আসন্ন বিপর্যয় এড়াতে এখনি ব্যবস্থা নিতে হবে। করোনার কারণে অচিরেই
মানুষ বাইবেলে বর্ণিত পরিস্থিতির মতো একাধিক দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হতে পারে বলে সাবধান করে বিসলে বলেন, ‘আমাদের হাতে সত্যিই আর সময় নেই। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে এবং প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে। সময় ফুরিয়ে আসছে। আগামী এক মাস পরই দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। অথবা আমরা কয়েক মাস সময়ও পেতে পারি। তাই এখন শুধু অর্থ পেলেই চলবে না, সঙ্গে খাদ্য সরবরাহ করার নিশ্চয়তাও লাগবে।’ এরইমধ্যে ডব্লিউএফপি ১০ কোটি মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজ বলেছেন, মহামারী কিছু দেশকে মানুষের বিরুদ্ধে নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এ কারণে মহামারী পরিস্থিতি মানবাধিকার সংকটে রূপ নিতে পারে, যা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। গতকাল নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে মহামারী মোকাবিলার সময় মানবাধিকার সংক্রান্ত নির্দেশনা এবং এর ফলে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার কৌশল সংক্রান্ত সংস্থাটির একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ওই সময় বক্তব্যে গুতেরেস এসব কথা বলেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, জাতিসংঘ মহাসচিব নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার কথা বললেও এর সুনির্দিষ্ট কোনো উদাহরণ দেননি। আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘করোনা ভাইরাস যেমন আক্রান্ত করতে কোনো বৈষম্য করেনি, তেমনি এই মহামারীর প্রভাবও কোনো বৈষম্য করবে না। এ পরিস্থিতিতে আমরা নির্দিষ্ট একটি জনগোষ্ঠীর ওপর যেমন প্রভাব পড়তে দেখেছি, তেমনি দেখেছি দুর্বল জনগোষ্ঠীকে লক্ষ করে ঘৃণামূলক বক্তব্যও বাড়বাড়ন্ত। সরকারগুলোকে স্বচ্ছতার সঙ্গে জবাবদিহিতার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, নাগরিক পরিসর ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হলো- মানবাধিকার ও আইনের শাসন বজায় রেখে বৈষম্যহীনভাবে সাড়া দেওয়া।
গতকাল প্রকাশিত জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা মহামারীর সময় অভিবাসী, শরণার্থী এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষরাই বেশি নাজুক অবস্থায় আছে। ১৩১টিরও বেশি দেশ নিজেদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। মাত্র ৩০টি দেশ আশ্রয়প্রার্থীদের ঢুকতে দিচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ