সর্বশেষ

নবীগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিডি’র চাল ও সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

এবার নবীগঞ্জে ৬নং কুর্শি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী আহমেদ মুসার বিরুদ্ধে মার্চ মাসের ভি.জি.ডি’র চাল ও মহিলাদের মাসিক সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রবিবার (১৯ এপ্রিল) মোঃ শরিয়ত আলী নামের এক ব্যাক্তি নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন। এ খবর জানাজানি হয়ে গেলে চেয়ারম্যান আলী আহমেদ মুসা সোমবার ২০ এপ্রিল সকালে তড়িঘড়ি করে এপ্রিল মাসের চাল গুদাম থেকে উত্তোলন করে কার্ডধারীদের মধ্যে এপ্রিল মাসের চাল নিয়ে মার্চ মাসের বিতরন দেখাচ্ছেন।

অপরদিকে সরেজমিনে গিয়ে সুবিধাভোগীদের কার্ডে দেখা গেছে গত ১৫ই এপ্রিল ফেব্রুয়ারী মাসের চাল ও সঞ্চয়ের টাকা বিতরন দেখানো হয়েছে।

এপ্রিল মাসের চাল ও সঞ্চয়ের টাকা আগামী ২২ এপ্রিল বিতরণ করা হবে বলে ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে জানা যায়। প্রতি মাসের চাল ও সঞ্চয়ের টাকা চেয়ারম্যান প্রতি মাসে উত্তোলন করে থাকলে ও নিয়ম মেনে মাসে মাসে বিতরণ না করায় এ নিয়ে এলাকায় বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সুবিধাভোগীদের কার্ডে গত ২০১৯ সালের জানুয়ারী মাস থেকে ২০২০ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত বিতরনের কার্ডে চেয়ারম্যানের কোনো স্বাক্ষর ছিলো না। সোমবার ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায় চেয়ারম্যান আলী আহমেদ মুসা এক সাথে গত ২০১৯ সালের জানুয়ারী মাস থেকে ২০২০ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত তিনি স্বাক্ষর প্রদান করতে দেখা যায়। অথচ তিনি প্রবাসে থাকায় এই সময়ের মধ্যে একবার শাহ সুজন মেম্বার ও ফারছু মিয়া মেম্বার একবার করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব থাকাকালীন সুজন মেম্বার এক মাসের ও ফারছু মিয়া ২ মাসের চাল ও সঞ্চয়ের টাকা বিতরণ করা হলেও কার্ডে স্বাক্ষর করেন চেয়ারম্যান আলী আহমেদ মুসা।

অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী আহমেদ মুসা তার নির্বাচনী এলাকার হতদরিদ্র ১৭৫ পরিবারের মহিলাদের মধ্যে মার্চ মাসে ভি.জি.ডি’র চাল বিতরণ ও মহিলাদের জমাকৃত মাসিক সঞ্চয়ের টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা ছিল।

এদিকে মার্চ মাস পেরিয়ে এপ্রিল মাস শেষের দিকে চলে আসলে ও ভি.জি.ডি’র চাল হতদরিদ্র মহিলাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি এবং মাসিক সঞ্চয়ের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে চেয়ারম্যান মুুসা তার কাছে রেখে দেন। এমনকি মহিলাদের ছবি সম্বলিত কার্ড গুলো চেয়ারম্যান নিজের কাছে জমা রেখেছেন।

এরই প্রেক্ষিতে কুর্শি ইউনিয়নের সমরগাও গ্রামর মোঃ শরিয়ত আলী নামে এক ব্যাক্তি ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভি.জি.ডি’র চাল ও সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগ করেন এবং হবিগঞ্জ- ১ আসনের সংসদ সদস্য শাহনেওয়াজ মিলাদ গাজী ও জেলা প্রশাসক হবিগঞ্জকে এর অনুলিপি প্রদান করে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলে শরিয়ত আলী এ প্রতিনিধিকে জানান।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য ফারছু মিয়া জানান, আমাদের চেয়ারম্যান সাহেব প্রবাসে থাকায় জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারী মাসের ভিজিডির চাল আমি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকাকালিন বিতরণ করি। কিন্তু চেয়ারম্যান সাহেবের নামে ডিও থাকার কারনে আমি কার্ডে স্বাক্ষর করতে পারিনি। কিন্তু মাষ্টাররোলে বিতরণে আমার স্বাক্ষর রয়েছে।এ ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আহমেদ মুসার সাথে তার ইউনিয়ন পরিষদের গিয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মার্চ মাসের চাল ও সঞ্চয়ের টাকা বিতরন করা হচ্ছে। আর এপ্রিল মাসের চাল আগামী ২২ এপ্রিল বিতরন করব বলে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।

এপ্রিল মাসে চাল উত্তোলন করে মার্চ মাসের বিতরন দেখাচ্ছেন এখন মার্চ মাসের চাল ও সঞ্চয়ের টাকা গেল কোথায় ? – এমন প্রশ্নের জবাবে সঠিক কোন ব্যখ্যা দিতে পারেননি। নবীগঞ্জ খাদ্য গুদামের ইনচার্জ অলক বৈষ্ণব জানান, কুর্শি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী আহমেদ মুসা নিজে এসে আজ ২০ এপ্রিল ২০২০ ইং তারিখে এপ্রিল মাসের ভিজিডির ‘১৭৫ বস্তায় ৫টন চাল উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন মার্চ মাসের চাল এ মাসেরই প্রথম সপ্তাহে উত্তোলন করেন। তাহলে মার্চ মাসের চাল গেল কোথায় এ প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান চেয়ারম্যান সাহেব তুলে নিয়ে গেছেন। এর তিনি কিছু করেছেন তা তিনিই বলতে পারবেন।এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার পাল বলেন অভিযোগ পেয়েছিলাম। সোমবার সরজমিনে গিয়ে চেয়ারম্যান চাল বিতরন ও সঞ্চয়ের টাকা বিতরণ করেছেন কিনা তা পরিদর্শন করি এবং সুবিধাভূগীদের সাথে আলাপ করে জেনেছি তারা চাল এবং সঞ্চয়ের টাকা দেরীতে হলেও সঠিকভাবে পেয়েছেন বলে জানান।

মার্চ মাসের চাল ও সঞ্চয়ের টাকা এপ্রিল মাসে কেন এমন প্রশেন জবাবে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারনে শুধু মার্চ মাসের চাল ও সঞ্চয়ের টাকা প্রতিটি ইউনিয়নে এপ্রিল মাসে বিতরণ করা হয়েছে। অন্যান্য মাসে যদি চেয়ারম্যানগন অনিয়ম করে থাকেন তাহলে তাদের বিরুদ্বে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ