সর্বশেষ

জাস্টিন ট্রুডোর মহানুভতা…

করোনা ভাইরাস মোকাবিলা করা এবং নাগরিকদের সাহস জোগাতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বাড়িভাড়াসহ সব দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, চলমান কোভিড-১৯ (করোনা ভাইরাস) প্রাদুর্ভাবের কারণে তার সরকার কানাডিয়ানদের অর্থনৈতিক দৈন্যদশায় পড়তে দেবে না। নিজের স্বাস্থ্য, পরিবারের স্বাস্থ্য, চাকরি, বাড়িভাড়া নিয়ে চিন্তিত হওয়ার দরকার নেই। সব সরকার দেখবে। আমরা কানাডিয়ানদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করব।

করোনা প্রতিরোধের জন্য কানাডা ইতিমধ্যে একাধিক ভূমিকা এবং উদ্যোগ নিয়েছে। এরমধ্যে কানাডায় বিদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, বিদেশে আটকে পড়া কানাডিয়ানদের দেশে ফেরায় সহায়তা দিতে ৫ হাজার ডলার প্রদান, দেশে ফেরার পর ১৪ দিন আইসোলেশনে থাকার পরও বেতন-ভাতা প্রদান, কানাডার প্রধান ছয়টি ব্যাংক মর্টগেজের কিস্তি পরিশোধ ছয় মাস পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ, আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত উপাসনালয়সহ যে কোনো স্থানে ৫০ জনের ঊর্ধ্বে জনসমাগম নিষিদ্ধ, ভাইরাস মোকাবিলায় ১ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য।

প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাসে দেশটিতে মারা গেছেন চার ব্যক্তি এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪১ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১১ জন। প্রধানমন্ত্রী নিজে ও তার স্ত্রী সোফিয়া, বিরোধী দলের নেতা জাসমিত সিং, টরন্টো মেয়র জন টরি ১৪ দিনের আইসোলেশনে রয়েছেন।

করোনা সঙ্কটে হৃদয়স্পর্শী ভাষণ ট্রুডোর :

যত সময় যাচ্ছে ততই ভয়াবহ হয়ে উঠছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। বিশ্বব্যাপী ক্রমেই বেড়ে চলেছে এ ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। চীনে উৎপত্তি হলেও বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারিতে এখন সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ইতালিতে। সেখানে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। ছড়িয়ে পড়েছে আমেরিকাতেও। বাদ নেই কানাডাও।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় ৩৪১ জনের দেহে করোনার উপস্থিতি সনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং সুস্থ হয়েছেন ১১ জন। এসব আক্রান্তদের চিকিৎসার্থে বাড়ি ভাড়া থেকে শুরু করে সব ধরণের আর্থিক দায়িত্ব নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রুডো।

এদিকে, সস্ত্রীক ১৪ দিনের সেল্ফ আইসোলেশনে রয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তার স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হলেও ট্রুডোর শরীরে এখনও করোনার সংক্রমণ ঘটেনি। এর মাঝেই গত ১৬ মার্চ স্থানীয় সময় সকালে জাতির উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন জাস্টিন ট্রুডো।

করোনা নিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষন বাংলায় হুবুহু তুলে ধরা হলো-

প্রিয় কানাডাবাসী, আমি জানি আজ সবাই কঠিন সময় পার করছেন। আশা করি এই বিপদ আমরা কাটিয়ে উঠবো। তবে সেই জন্য আপনাদের সাহায্য আমার দরকার।

আপনাদের জন্য আমি আজ প্রধানমন্ত্রী। জনগণের সেবা ও নিরাপত্তা দেয়া আমার প্রধান কাজ। আমি চাইলে নিজে ঘরে বন্দি থাকতে পারতাম। তবুও ঝুঁকি নিয়ে আপনাদের খোঁজ খবর নিচ্ছি, বাইরে বের হচ্ছি। কারণ, আপনারাই আমার অক্সিজেন। আপনারা সুস্থ থাকলেই আমি সুস্থ। আপনাদের থেকে গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে কিছুই নেই।

আপনাদের কাছে অনুরোধ, আপনারা এক মাস নিজ বাসায় অবস্থান করুন। শুধুমাত্র মেডিসিন, প্রয়োজনীয় খাবার, পানীয়র দোকানগুলো খোলা রাখবেন। তবুও সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি নাগরিকের বাসায় এক মাসের যাবতীয় সব ধরনের খাবার পানি, মেডিসিন, মাস্ক আমরা পৌঁছে দিচ্ছি। তাছাড়া আপনাদের যখন যা লাগে আপনাদের দেয়া নাম্বারে যোগাযোগ করবেন, আপনাদের বাসায় সব কিছু পৌঁছে দেয়া হবে। তবুও বাইরে বের হবেন না।

ভয় নেই, কাউকে অনাহারে মরতে হবে না। আপনারা নিজ বাসায় অবস্থান করুন, সচেতন থাকুন। আপাতত আমাদের দেশ লক ডাউন করে দিচ্ছি। পরিস্থিতি ঠিক হলে আবার খুলে দিব। আমার উপর আপনারা আস্থা রাখুন।

আপনারা যারা অফিস আদালত কিংবা অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজে নিয়োজিত ছিলেন, আপনাদের কারও কাজে যেতে হবে না। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অফিস কারখানা বন্ধ ঘোষণা করলাম।

ভয় নেই, আপনাদের সবার একাউন্টে আপনাদের মাসিক বেতনের টাকা পৌঁছে যাবে। শুধু তাই নয়, আপনারা যারা বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন, সেই ভাড়াও সরকার বহন করবে। এসব নিয়ে একটুও চিন্তিত হবার কারণ নেই। আপনাদের ভালো রাখাই আমার কাজ। যারা সরকারের নিয়ম মানবে তাদের এক কালীন অতিরিক্ত অর্থ পুরস্কার দেয়া হবে।

করোনা আজ পুরা দুনিয়ার এক আতংকের নাম। আপনাদের সবার সহযোগিতা দরকার। আপনারা কেউ ঘর থেকে বের হবেন না। বাসায় থাকুন এবং সচেতনতার সাথে থাকুন। আশা করি, শীঘ্রই আমরা এই সংকট কাটিয়ে উঠবো। এই জন্য দয়া করে আপনারা আমাকে সহযোগিতা করুন। ধন্যবাদ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ