সর্বশেষ

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ঝরলো ১৬ প্রাণ

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ অংশে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোররাত ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার রামপুরে যাত্রীবাহী বাস এবং মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ছয় জন নিহত হন। অন্যদিকে সকালে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগায় মাইক্রোবাসের ১০ যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন।

শুক্রবার ভোরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় কান্দিগাঁও এলাকায় একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে ১০ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও তিনজন।

তারা সকলেই একই পরিবারের সদস্য ও সকলে মিলে সুনামগঞ্জের যাচ্ছিলের বিয়ের কনে দেখতে। পথিমধ্যে এ দুর্ঘটনায় পাণ হারান এ নয়জন। এছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যরা ও গাড়ির চালক বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের পাগলার ফতুল্লা থেকে বিয়ের কনে দেখতে সুনামগঞ্জের দিরাইয়েয় উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন একই পরিবারের ১২ সদস্য। পথে তারা নামাজের বিরতি নিয়ে নামাজ পড়ে আবার তাদের যাত্রা শুরু করলে তাদেরকে বাঁপাশ দিয়ে অন্য একটি মাইক্রোবাস ওভারটেক করে। এরইমধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা এনা পরিবহনের একটি বাসকে সাইড দিতে কান্দিগাঁও এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।।

নিহতদের মধ্যে ছয়জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন ইমন খান (২৭), রাজীব (২৮), মহসিন (৩০) রাব্বী (২৪) আসমা (৩০) ও সুমনা (৩৪)। নিহতরা সকলেই নিকটাত্মীয়। নিহতদের মধ্যে সুমনার মৃত্যু হয় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বাকিরা ঘটনাস্থলেই মারা যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এরশাদুল হক ভূঁইয়া জানান, নিহতদের পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনে পুলিশকে জানিয়েছেন তারা সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন নয়জন। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান নারী ও শিশুসহ আটজন। আহত হন আরও চারজন। পরবর্তীতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও এক নারী।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার রামপুরে যাত্রীবাহী একটি বাস এবং মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ছয় জন নিহত হয়েন। এ ঘটনায় আহত হন আরও চার যাত্রী।

নিহতদের মধ্যে চারজনের নাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন- সোহান (২০), সাগর (২২), রিফাত (১৬) ও ইমন (১৯)। এছাড়া মাইক্রোবাসের আহত চার আরোহীকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তারা হলেন শাহিন (৩০), বিজয় (১৯), আবীর (১৯) ও জিসান (২৪)।

হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ‘ওই মাইক্রোবাসের যাত্রীরা নারায়ণগঞ্জ থেকে সিলেটে যাচ্ছিলেন মাজার জিয়ারত করতে। আর লিমন পরিবহনের বাসটি সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। মহাসড়কের ভাটি কালিসীমা এলাকায় দুই বাহনের মুখামুখি সংঘর্ষে হলে মাইক্রোবাসে আগুন ধরে যায়। তাতে ছয়জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।’

এদিকে মাইক্রোবাসের গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটেনি। তবে দুর্ঘটনায় গ্যাস লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সেখান থেকেই আগুন লাগে বলে ধারণা করছেন পুলিশ।

50% LikesVS
50% Dislikes
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ