সর্বশেষ

ইসলামে প্রতিবেশীকে ভালোবাসা ও মর্যাদা

প্রতিবেশীর প্রতি ভালোবাসার গুরুত্ব অপরিসীম। সভ্যতার ক্রমবিকাশের সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের মিলেমিশে বসবাস করার মানসিকতা সৃষ্টি হয়েছে। এর সুবাদে গড়ে উঠেছে প্রতিবেশী ও বন্ধুসুলভ মানসিকতা ও আচার-আচরণ। প্রতিবেশী কারা? কতদূর এর সীমা? এ প্রশ্নের জবাবে হজরত হাসান (রা.) বলেছেন, ‘নিজের ঘর থেকে সামনে ৪০ ঘর, পেছনে ৪০ ঘর, ডানে ৪০ ঘর এবং বাঁয়ে ৪০ ঘরের অধিবাসী হচ্ছে প্রতিবেশী।

প্রতিবেশীর প্রতি কর্তব্যগুলো হলো : প্রয়োজনে তাকে সাহায্য করা, কোনো জিনিস ব্যবহার করতে চাইলে তা দেওয়া। প্রতিবেশীকে উপহার দেওয়া, তার বাড়িতে খাবার পাঠানো ইত্যাদি। আবুযার (রা.) বলেন, একদা রাসুলুলল্গাহ (সা.) বললেন, ‘হে আবুযার, যখন তুমি ঝোল তরকারি রান্না করবে, তখন তাতে পানির পরিমাণ বেশি করো। তোমার প্রতিবেশীর বাড়িতে রীতিমতো পৌঁছে দাও (মুসলিম ২৬২৫)। রাসুল (সা.) আরও বলেন- ওই ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদে থাকে না। ওই সাহাবি (রা.) থেকেই বর্ণিত- রাসুলুলল্গাহ (সা.) বলেছেন, হে মুসলিম নারীরা, কোনো প্রতিবেশিনী যেন তার অপর প্রতিবেশিনীর উপঢৌকনকে তুচ্ছ মনে না করে; যদিও তা ছাগলের পায়ের ক্ষুর হোক না কেন (সহিহুল বুখারি, ২৫৬৬ ও মুসলিম, ১০৩০)

প্রতিবেশীর প্রতি মানবিক হওয়ার নির্দেশ দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সবাই আল্লাহর ইবাদত করো, তার সঙ্গে কাউকে শরিক করো না, বাবা-মায়ের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করো, নিকটাত্মীয়, এতিম ও মিসকিনদের প্রতি এবং প্রতিবেশী আত্মীয়ের প্রতি, আত্মীয় প্রতিবেশীর প্রতি, পথচলার সাথী ও পথিকদের প্রতি এবং তোমাদের অধীনস্থ ক্রীতদাস ও দাসীদের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ প্রদর্শন করো।’ (সুরা নিসা :৩৬)

হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘জিবরাইল এসে আমাকে প্রতিবেশীর ব্যাপারে অবিরত উপদেশ দিতে থাকলেন। এমনকি আমার মনে হলো, হয়তো তিনি প্রতিবেশীকে আমার উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেবেন।’ (সহিহ বুখারি :৬০১৫; মুসলিম :২৬২৪)

প্রতিবেশী ভালোবাসা ও আন্তরিকতার হকদার। সুখ-দুঃখে একে অন্যের অংশীদার। বিপদে দুর্দিনে প্রতিবেশী হবে প্রতিবেশীর বন্ধু। সর্বাত্মক চেষ্টার মাধ্যমে প্রতিবেশীকে সাহায্য করবে। প্রয়োজনে নিজের জায়গায় খুঁটি গাড়তে দেবে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘এক প্রতিবেশী যেন নিজের সঙ্গে অপর প্রতিবেশীকে খুঁটি গাড়তে নিষেধ না করে।’ (রিয়াদুুস সালেহিন :৩০৭)

প্রতিবেশীকে কখনো কষ্ট দেওয়া যাবে না। এ ব্যাপারে রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি মুমিন নয়, আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি মুমিন নয়, আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি মুমিন নয়। জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! কে সেই ব্যক্তি? তিনি বলেন, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।’ (সহিহ বুখারি :৬০১৬) ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘বন্ধুদের মধ্যে আল্লাহর কাছে উত্তম বন্ধু ওই ব্যক্তি, যে তার সঙ্গীর কল্যাণকামী, প্রতিবেশীদের মধ্যে আল্লাহর কাছে উত্তম প্রতিবেশী ওই ব্যক্তি, যে তার প্রতিবেশীর কল্যাণকামী।’ (রিয়াজুুস সালেহিন :৩১১)

প্রতিবেশীর কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ হলে আমাদের জীবন হবে সুখ-সমৃদ্ধিতে ভরপুর। প্রতিবেশীর প্রয়োজনে নিজের ঘরের খাবার বেশি করে রান্না করা ইসলামের শিক্ষা। হজরত আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘হে আবু জর! যখন তুমি তরকারি রান্না করো, তখন তাতে একটু বেশি পানি দিয়ে ঝোল বাড়িয়ে তোমার প্রতিবেশীকে দিও।’ (সহিহ মুসলিম :২৬২৫)

50% LikesVS
50% Dislikes
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ